পাঁচ বছর আগের ঘটনা। বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা মধুজা মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় মুক্তি পেয়েছিল বাংলা সিনেমা 'ডিপ সিক্স' (Deep 6)। ফেস্টিভ্যাল ঘুরে ২০২৬-এর ৭ আগস্ট কলকাতার প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখল মধুজার 'ডিপ সিক্স'। যে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম, অভিনেতা চন্দন রায় সান্যাল ও বাংলাদেশের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মায়া ঘোষ। কলকাতায় সিনেমা মুক্তির পর সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের সঙ্গে কথা বললেন তিলোত্তমা সোম।
পাঁচ বছর পর কলকাতায় ছবি মুক্তি। একজন বাঙালি হিসেবে কতটা আবেগপ্রবণ, কেমন অনুভূতি?
আসলে একজন অভিনেত্রী হিসেবে সিনেমা মুক্তির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় আমি অভ্যস্ত। এটা আমার দুর্ভাগ্য যে আমি এই অভ্যাসে অভ্যস্ত। আমার তো মনে হয়, একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর তুলনায় পরিচালকের কাছে এধরনের পরিস্থিতি আরও অনেক বেশি কঠিন। একই কথা প্রযোজ্য প্রযোজকদের ক্ষেত্রেও। তাঁরা সবসময় ছবি মুক্তির বিকল্প পথ খোঁজেন।
আমার বাবা, মা আজও কলকাতায় থাকেন। তাই আমার হৃদয়টাও কলকাতাতেই থাকে। কলকাতার দর্শক যদি আমার কাজ দেখেন, তাঁদের ভালো লাগে সেটা তো আমার কাছে স্বর্গসুখ। মনে হবে পৃথিবীর সব সুখ আমার ঝুলিতে।
কলকাতার দর্শক আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
আমার জন্ম কলকাতায়। আমি কলকাতার মেয়ে। প্রতিটি গ্রীষ্মের ছুটি কলকাতাতেই কাটিয়েছি। তাই কলকাতার দর্শক যদি আমার কাজ দেখেন, তাঁদের ভালো লাগে সেটা তো আমার কাছে স্বর্গসুখ। মনে হবে পৃথিবীর সব সুখ আমার ঝুলিতে। প্রায়ই কলকাতার শিল্পীদের সঙ্গে দেখা করতাম। তাঁদের সাপোর্টটা আমার কাছে বিরাট প্রাপ্তি। যখন ওঁদের সঙ্গে দেখা হত তখন তাঁদের সঙ্গে আর কলকাতার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের টান আরও গভীরভাবে অনুভব করতাম।
'ডিপ সিক্স' সিনেমার দৃশ্য
'ডিপ সিক্স' কলকাতায় মুক্তি পেতে এতটা সময় লেগে গেল...
এর নেপথ্য কারণ একমাত্র বলতে পারবে সিনে পরিবেশকরাই। আমার পক্ষে এই উত্তর দেওয়া অসম্ভব। তবে এটুকু বলতে পারি সিনেমার জন্য সত্যিই চ্যালেঞ্জিং একটা সময়। নানা ধরনের ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিবেশকদের আগ্রহকে জাগ্রত করা প্রয়োজন। আফটার অল, এটা তো কলকাতা! বসুশ্রী সিনেমাহলে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার মতো এই অসাধারণ উদ্যোগের জন্য ইন্ডি ফ্রেমকে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই। ছবির প্রযোজকদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ। সকলের জন্যই আজ আমাদের ছবি কলকাতার দর্শকের কাছে পৌঁছে গেল। পথটা মোটেই খুব একটা সহজ ছিল না।
বিভিন্ন ভাষার ছবিতে কাজ করেছেন। বাংলায় মেগা বাজেটের ছবি খুব কমই তৈরি হয়। তাও কেন বারবার অভিনয় করতে রাজি হন?
আমি মধুজা মুখোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করি। ওঁর চিত্রনাট্য আমার কাছে ভরসাযোগ্য। তাই প্রস্তাব পেলে কোনও প্রশ্ন তোলার অবকাশই থাকে না। ভবিষ্যতে যদি আবার কখনও মধুজা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাই, নিশ্চয়ই করব।
কলকাতায় শুটিং করতে গিয়ে কখনও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন?
এখনও পর্যন্ত আমি কলকাতায় চারটি ছবির শুটিং করেছি। প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভালো অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছি। আশা করি ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক সুযোগ আসবে। সেই অপেক্ষাতেই রয়েছি।
বাংলায় এমন কোনও পছন্দের শিল্পী আছে যাঁর সঙ্গে কাজ করতে চান?
অনেকে রয়েছেন যাঁদের সঙ্গে আমি কাজ করতে উদগ্রীব। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, আমার এই স্বপ্নটাও যেন একদিন পূরণ হয়।
'ডিপ সিক্স'
এমন কোনও চরিত্র, একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্লে করার স্বপ্ন দেখেন?
গোয়েন্দা চরিত্রে যদি সুযোগ পেতাম খুব মজা করে করতাম। জানো তো, এটা আমার অনেকদিনের ইচ্ছে।
কলকাতা আপনার হৃদয়ের কতটা কাছের?
আমার বাবা, মা আজও কলকাতায় থাকেন। তাই আমার হৃদয়টাও কলকাতাতেই থাকে।
