বিতর্ক আর উর্বশী রাওতেলা যেন একে-অপরের সমার্থক! হাতে সিনেমা-সিরিজ কিংবা নিদেনপক্ষে টেলিভিশন শো না থাকলেও স্টাইল স্টেটমেন্টের জেরেই লাইমলাইটে বিরাজ করেন মডেল-অভিনেত্রী। সম্প্রতি ফের একবার ফ্যাশন স্টেটমেন্টের জন্যেই কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হল উর্বশী রাওতেলাকে। ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে তেরঙ্গা পোশাকে ধরা দিয়েছিলেন মডেল-নায়িকা, আর তাতেই উসকে গিয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, তেরঙ্গার আদলে তৈরি গাউন পরে জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন তিনি। একাংশ আবার উর্বশী রাওতেলার বিরুদ্ধে 'জাতীয় পতাকা বিধি' লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। বিতর্কের পারদ চড়তেই এবার মাঠে নামলেন মডেল-নায়িকা।
নেটভুবনজুড়ে নিন্দার আবহ। ‘ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া’, কেউ বা ‘জাতীয় গৌরব অবমাননা রোধ আইন’-এর কথা মনে করিয়ে উর্বশীকে একহাত নিয়েছেন।
'মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬' চূড়ান্ত পর্বে বিচারকের আসনে ছিলেন উর্বশী রাওতেলা। অতঃপর ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ‘জাজ’ হিসেবে নজর কাড়তে পোশাকেও অভিনবত্ব বজায় রেখেছিলেন তিনি। দেশের জাতীয় পতাকার রঙে অনুপ্রাণিত এক জমকালো লম্বা গাউনে হাজির হন। আর সেখান থেকে অভিনেত্রীর সাজপোশাকের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের ঝড়। নেটভুবনজুড়ে নিন্দার আবহ। ‘ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া’, কেউ বা ‘জাতীয় গৌরব অবমাননা রোধ আইন’-এর কথা মনে করিয়ে উর্বশীকে একহাত নিয়েছেন। একাংশ যদিও উর্বশী রাওতেলার দেশাত্মবোধের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তবে নেটমহলের আরেকাংশের কাছে এহেন পোশাক পরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আদতে জাতীয় পতাকার অবমাননা। অতঃপর পোশাক নির্বাচন নিয়ে উর্বশীকে পাঠ দিতেও ছাড়লেন না তাঁরা। এমন আবহেই মুখ খুলেছেন মডেল-নায়িকা।
জাতীয় পতাকার অবমাননা প্রসঙ্গে কী বললেন উর্বশী রাওতেলা?
আইন অনুযায়ী, জাতীয় পতাকাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে স্পর্শ করানো বা পোশাক হিসেবে কোমর থেকে নিচে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এপ্রসঙ্গে উর্বশীর মন্তব্য, "পোশাকের দেখলেই বুঝবেন, ভারতের জাতীয় পতাকা এবং আমার এই গাউনটির..."
উর্বশী জানিয়েছেন বেলারুশের ডিজাইনার দারিয়া চেরমাশেন্তসেভা এই গাউনটি বানাতে সময় নিয়েছিলেন প্রায় তিন মাস। পাশাপাশি পোশাকের বিশেষত্ব নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, "আমি আমার দেশকে আমার সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই বহন করি সবসময়ে। তাই এমন কিছু পরতে চেয়েছিলাম যা শুধু আমার জন্মভূমিকে তুলে ধরবে না, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের গুরুত্বকেও প্রকাশ করবে। সেই ভাবনা থেকেই এই বিশেষ পোশাকের সৃষ্টি। বলা ভালো, জাতীয় আবেগকে শৈল্পিক অভিব্যক্তিতে রূপ দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা মাত্র।" ভাইরাল ছবি-ভিডিওতে দেখা যায়, উর্বশীর তেরঙ্গা গাউনের ঝালর মেঝেয় লুটচ্ছে। যা কিনা আইনত অপরাধ বলেই গণ্য করা হয়। কারণ আইন অনুযায়ী, জাতীয় পতাকাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে স্পর্শ করানো বা পোশাক হিসেবে কোমর থেকে নিচে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর সেকথা উল্লেখ করেই অভিনেত্রীকে ফ্যাশনবোধের পাঠ দিয়েছেন নেটভুবনের একাংশ। 'ভারতীয় পতাকা বিধি' লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে উর্বশীর মন্তব্য, "পোশাকের গড়ন, রঙের বিন্যাস, কারুকাজ এবং নির্মাণশৈলী— সবটাই ফ্যাশনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। দেখলেই বুঝবেন, ভারতের জাতীয় পতাকা এবং আমার এই গাউনটির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই গাউনটি জাতীয় পতাকার হুবহু অনুকরণ নয়। বরং ত্রিবর্ণরঞ্জিত একটি বিশেষ পোশাক। আমার গাউনের কমলা রংটি হুবহু গেরুয়া নয়, সবুজ রংটিও ভিন্ন এবং মাঝখানের প্রতীকটি অশোক চক্রের আদলে হলেও তা আলাদা।"
