বাংলা ও বাঙালির মনন-চিন্তনে উত্তম কুমারের অবস্থান তো নতুন করে ব্যক্ত করার নয়। তাঁর ভুবনভোলানো হাসি, চাহনি, বেশভূষা থেকে গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আজও বাঙালির নিজস্ব ব্যাকরণ। শতবর্ষেও যিনি বাংলা সিনেজগৎ তো বটেই, এমনকী এই ভূ-ভারতের ফিল্মিদুনিয়াতেও সমুজ্জ্বল। ভারতীয় বিনোদুনিয়ার সেই অন্যতম চিরন্তন 'ম্যাটিনি আইডল'-এর জন্মশতবর্ষে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নরেন্দ্র মোদির। এবার উত্তমের অবয়ব খচিত বিশেষ স্মারক মুদ্রা আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১০০ টাকার এই স্মারক মুদ্রায় থাকবে উত্তম কুমারের ছবি। শুধু তাই নয়! আরও চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, এই বিশেষ স্মারক মুদ্রা তৈরি হবে ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি রুপো দিয়ে।
কথায় বলে, কিছু 'নাম' কেবল ব্যক্তিপরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সময়ের স্রোত পেরিয়ে তাঁরা হয়ে ওঠেন মিথ এবং সংস্কৃতির এক-একটি চিরন্তন প্রতীক। যেমন 'অরুণকুমার চ্যাটার্জি', যিনি পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত 'মহানায়ক' হয়ে উঠলেন। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যদিও খুব বেশি সিনেমায় তাঁকে আবিষ্কার করেনি! কারণ উত্তম কুমার অভিনীত হিন্দি ছবি বললেই এযাবৎকাল 'অমানুষ', 'আনন্দ আশ্রম', কিংবা 'কিতাব'-ই চর্চার শিরোনামে উঠে আসে, তবুও মায়ানগরীর তৎকালীন স্টুডিওপাড়ায় উত্তমের গুণমুগ্ধের সংখ্যা নেহাত কম ছিল না। এবার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল মোদি সরকার। অর্থ মন্ত্রকের তরফে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, 'মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করা হবে।'
উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষ
বাগেশ্বর বাবার আমিষ-নিরামিশ তত্ত্বে যখন বাংলাজুড়ে বিক্ষোভ, তখন মহানায়কের নামে কেন্দ্রের এহেন পদক্ষেপ যে বাঙালির পরমপ্রাপ্তি, তা বলাই বাহুল্য। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১০০ টাকার এই স্মারক মুদ্রায় থাকবে উত্তম কুমারের ছবি। শুধু তাই নয়! আরও চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, এই বিশেষ স্মারক মুদ্রা তৈরি হবে ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি রুপো দিয়ে। যার ব্যাস হবে ৪৪ মিমি। উল্লেখ্য, নিজের শেষ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও মহানায়কের স্মৃতিচারণ করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অভিনয় জগতে উত্তম কুমারের অবদান কখনও ভুলবে না সিনেপ্রেমীরা। তাঁদের মনের মণিকোঠায় রয়েছেন উত্তম কুমার। অনেকেই বলেন, সত্যজিৎ রায়ের 'নায়ক' সিনেমাকে তাঁর অভিনয়ই এতটা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সিনেপ্রেমীরাও তাঁকে মনে রেখেছেন এই চরিত্রে। সত্যজিৎ রায় নিজে মনে করতেন, অভিনয় দক্ষতার সঙ্গে উত্তম কুমারের বিশাল গভীরতাই তাঁকে এত বড় করে তুলেছে। যে কোনও চরিত্র জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাঁর পরিশ্রমের বিকল্প ছিল না।” এমনকী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মদিনেও ‘সপ্তপদী’র ঝলকে উত্তম স্মরণ করেছিলেন তিনি।
