‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে কংগ্রেস কি একঘরে? হাত শিবিরের যেখানে জাতীয় গানের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণে প্রবল আপত্তি, সেখানে ইন্ডিয়া জোটেরই সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্সের দুই শীর্ষ নেতা তথা ঐতিহ্যবাহী আবদুল্লা পরিবারের দুই সদস্য ফারুখ আবদুল্লা এবং ওমর আবদুল্লাকে দেখা গেল পুরো জাতীয় গানটি শুনতে। এবং নীরবে দাঁড়িয়ে সেটিকে যথাযথ সম্মান দিতে। যদিও বাবা বা ছেলে-কেউই গানটিতে গলা মেলাননি। তবে মাঝপথে গান বন্ধও করা হয়নি।
সদ্য শ্রীনগর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। সেখানে বন্দে মাতরম গানটি বাজানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ম মেনে পুরো ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের গানটিই বাজে। এবং পুরো সময় দাঁড়িয়ে থেকে জাতীয় গানে সম্মান প্রদর্শন করেন আবদুল্লারা। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস শাসিত কেরলের মতো রাজ্য যেখানে বন্দে মাতরমের পূর্ণ সংস্করণে আপত্তি জানাচ্ছে, সেখানে আবদুল্লাদের এভাবে জাতীয় গানে সম্মান প্রদর্শন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দপ্তরে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধাদানের অভিযোগে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সোমবার দিল্লি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করছেন কয়েকজন তরুণী। সেই সময় সোনিয়া এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেন, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি কর্মীদের ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপি তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শানিয়েছে হাত শিবিরকে।
আসলে কংগ্রেস ঠিক করে ফেলেছে, ছ’টি স্তবকের পুরো গান নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে গানটির যে দু’টি স্তবক কংগ্রেসের অধিবেশনগুলিতে গাওয়া হয়, সেটাই আগামী দিনেও গাওয়া হবে। মোদি সরকার যে পুরো গান গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সেটা মানা হবে না। কিন্তু কংগ্রেসের এই অবস্থান যে শরিকরাও মানছে না, সেটা আবদুল্লাদের অবস্থানে স্পষ্ট।
