তৃণমূল জমানায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজোর সময় প্রবল বর্ষণ, হরপা বান ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উত্তরবঙ্গ। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নতুন করে বাড়িঘর নির্মাণ ও সরকারি পরিকাঠামোগুলির পুনর্নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে ৪৬৫টি প্রকল্পে ২৪৯.৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে একথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
২০২৫ সালের ৪ ও ৫ অক্টোবর ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় উত্তরবঙ্গ। শুধুমাত্র দার্জিলিং জেলাতেই ধসের কারণে মৃত্যু হয় ২৩ জনের। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিরিক। এছাড়াও জলপাইগুড়ি ও ডুয়ার্সেও বন্যার কারণে একাধিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। ভূমিধসের কবলে পড়ে বাড়িঘর, দোকানপাট। দুর্যোগের জেরে পাহাড়ের মানুষের জীবন, জীবিকা ও জনপরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরেও উত্তরবঙ্গকে অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বহু মানুষের মৃত্যু সত্ত্বেও রাজ্যে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল হওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গের মতোই গুরুত্ব দিয়েছে শুভেন্দু সরকার। তাই নেপালে বিপর্যয়ের মাঝে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সোশাল মিডিয়ায় শুভেন্দু লেখেন, "পাহাড়ের মানুষের পাশে থেকে সহমর্মিতার সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং পাহাড়ের জনপরিকাঠামো পুনর্গঠনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।"
তিনি আরও লেখেন, "পাহাড়ের মানুষের জীবন যাতে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে, সেখানকার অধিবাসীদের জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎ যাতে আরও সুরক্ষিত হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার। পাহাড়ের মানুষের পাশে থেকে পাহাড়ের জনজীবনকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।" উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গ সফরে যান মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পাহাড়ের বর্তমান প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন শুভেন্দু। এরপরই পাহাড় পুনরুদ্ধারে টাকা বরাদ্দের কথা সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন।।
