নতুন জামার গন্ধ। পুজোসংখ্যার পাতায় নয়া অভিযান। শরতের নীল-সাদা মেঘের ভেলায় পুজোর ছুটির চিঠি। ছোটবেলার পুজোর গায়ে এরকমই মিঠে স্মৃতির পরত। নস্ট্যালজিয়ার ঝাঁপি খুললেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়
ছোটবেলার পুজো? সত্যি কথা বলতে কী আমি তো এখনও ছোট। আর যে ছোটবেলাটা আবছা মনে পড়ে সে সময় আমরা থাকতাম রাজা বসন্ত রায় রোডে। সেখানে সংঘশক্তি বলে একটা ক্লাবের পুজো হত। এখনও হয়। তবে সে পাড়ার অনেকেই আর নেই। তো সেই পুজোয় চাঁদা তোলা থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সবকিছুতেই জড়িয়ে থাকতাম। তা নিয়ে বাড়িতে কম অশান্তি হত না। বিসর্জনে কিছুতেই যেতে দেবে না। একা ছাড়বে না। কিন্তু আমি যাবই। জেদ করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ। এরকম ব্যাপারস্যাপার চলত।
[ আমার দুগ্গা: ভাগ করে পুজোসংখ্যা পড়ার আনন্দই আলাদা ]
তবে ছোটবেলার পুজো বলে একটা ভয়াবহ স্মৃতিও ভেসে ওঠে। ওই পুজোতেই ঘটেছিল। সে বছর অষ্টমীর দিন আমরা ভোগ বিতরণ করছি। আচমকা দেখলাম পাশের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে ধোঁয়া উঠছে। সকলে দৌড়ে ছুটে এলাম। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। তারপর চোখের সামনে দেখলাম তিন মিনিটে গোটা প্যান্ডেলটা পুড়ে ছাই হয়ে গেল। সে যে কী যন্ত্রণার, কী হৃদয়বিদারক ঘটনা তা বলে বোঝাতে পারব না। অত আনন্দের জিনিস, কষ্টের জিনিস অষ্টমীতে জ্বলে যাওয়া, আর তাকে নিয়ে নবমী-দশমী কাটানো যে কী কষ্টের তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তারপর থেকে আর আমি পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকি না। থাকতে ইচ্ছেও করে না। ওরকম কোনও ঘটনা ফেস করতে চাই না বলেই থাকি না। এখন পুজো মানে বেশিরভাগ সময়ই কলকাতার বাইরে থাকি। আর তা না হলে বাড়ির মধ্যেই। যদিও সকলে জানে, আমি কলকাতার বাইরে।
[ আমার দুগ্গা: পুজোয় বাঙালি মেয়েরা যেন আরও সুন্দরী হয়ে উঠত ]
The post আমার দুগ্গা: বিসর্জনে যাওয়া নিয়ে বাড়িতে খুব অশান্তি হত appeared first on Sangbad Pratidin.
