ভোটমুখী বঙ্গে মার্চ মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত 'কর্পূর'-এর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। কারণ ছবিতে অভিনয় করেছেন ব্রাত্য বসু এবং কুণাল ঘোষ। যাঁরা ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। আর সেই যুক্তি দিয়েই অরিন্দম শীল পরিচালিত সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন রায়পুরের বাসিন্দা। তবে এবার হাই কোর্টে বড় জয় পেল কুণাল (Kunal Ghosh)-ব্রাত্য (Bratya Basu) অভিনীত 'কর্পূর' (Karpur)।
এই সিনেমার দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছাব্বিশের দুই নির্বাচনী প্রার্থী ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষ। সেই যুক্তিতে অবিলম্বে ছবির মুক্তি স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়। কিন্তু এদিন সংশ্লিষ্ট মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা উচ্চ আদালত। পালটা কোর্টে আবেদনকারীর অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলে ডিভিশন বেঞ্চ।
শুক্রবার সেই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে আদালতের তরফে আপাতত আর কোনও বাধা রইল না ছবির প্রদর্শনীতে। সম্প্রতি পরিচালক অরিন্দম শীল পরিচালিত 'কর্পূর'-এর প্রদর্শনী বন্ধের আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন গোপাল সামন্ত নামে রায়পুরের জনৈক বাসিন্দা। তিনি দাবি করেছিলেন,'কর্পূর' নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। এবং বাংলার বিধানসভা ভোটের আবহে এই ছবি বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে জনমানসে। কারণ এই সিনেমার দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছাব্বিশের দুই নির্বাচনী প্রার্থী ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষ। সেই যুক্তিতে অবিলম্বে ছবির মুক্তি স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়। কিন্তু এদিন সংশ্লিষ্ট মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা উচ্চ আদালত। পালটা কোর্টে আবেদনকারীর অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলে ডিভিশন বেঞ্চ।
ব্রাত্য বসু, কুণাল ঘোষ অভিনীত 'কর্পূর'
মামলাকারী গোপাল সামন্ত রাজ্যের বাইরে রায়পুরের বাসিন্দা। সেই যুক্তিতেই মামলা করার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। বালি খাদান সংক্রান্ত আগের এক মামলার রায়ের উল্লেখ করে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বাসিন্দা না হলে এ ধরনের জনস্বার্থ মামলার গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। সেই যুক্তিতেই খারিজ মামলা করা হল। আদালত স্পষ্ট জানায় যে, এই মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। তবে একই সঙ্গে আদালতের তরফে এও উল্লেখ করা হয় যে, নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট আইনের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে পদক্ষেপ করতে পারে। ফলে 'কর্পূর' প্রদর্শনীতে আর আইনি বাধা নেই।
