shono
Advertisement
Uttam Kumar Ganesh Chaturthi

বাংলায় গণেশ চতুর্থীর পুজো শুরু করেন মহানায়ক! ধুতি-পৈতেয় নিজহাতে গণপতিকে সাজাতেন উত্তম

স্বপ্নে গণপতিকে সাজানোর নির্দেশ পেয়েছিলেন উত্তম কুমার। লাড্ডু কোথা থেকে আসত জানেন?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 05:17 PM Aug 27, 2025Updated: 05:26 PM Aug 27, 2025

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছর খানেক আগে অবধি পয়লা বৈশাখেই বাঙালিদের গণেশপুজোর চল ছিল। তবে বর্তমানে বাঙালিরা নাকি 'মহারাষ্ট্রের গণপতি উৎসব'কে আপন করেছে! এমনটাই দাবি অনেকের। একাংশের আবার আক্ষেপ, বাঙালিরা নিজের শিকড়-সংস্কৃতি ভুলেছে। আক্ষেপ-অভিযোগ যাই হোক, আজকাল কলকাতার পাশাপাশি জেলাশহরেও গণেশ চতুর্থী ধুমধাম করে পালিত হয়। তবে জানেন কি, বাংলায় চতুর্থী উপলক্ষে গণেশ পুজোর চল শুরু হয় বাঙালির একমেবাদ্বিতীয়ম 'ম্যাটিনি আইডল' উত্তম কুমারের হাত ধরেই?

Advertisement

সময়কাল ছয়ের দশক। গোটা মুম্বই গণপতিকে স্বাগত জানানোর জন্য সেজে উঠেছিল। উৎসবের আবহে উত্তম কুমার তখন মায়ানগরীতে 'ছোটি সি মুলাকাত' ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত। চারদিকে এমন উৎসবের আমেজ দেখে মহানায়কও নিজের বাড়িতে সাড়ম্বরে লম্বোদরের আরাধনার করার মনস্থ করেন। তবে আরও চমকপ্রদ ব্যাপার ঘটে একদিন ভোরবেলায়। উত্তম কুমার স্বপ্ন দেখেন তিনি গণেশ পুজো করছেন। তড়িঘড়ি ঘুম থেকে উঠে গোটা বিষয়টা সুপ্রিয়াদেবীকে জানান। এরপরই ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে নিজহাতে গণপতির মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন মহানায়ক। শোনা যায়, কোনও পুরোহিত নন, নিত্যপুজোর ভার নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন উত্তম। রোজ স্নান করে শুদ্ধবস্ত্রে পুজো করতে বসতেন। নিয়মমাফিক নিত্যপুজোর সামগ্রীও আসত তাঁর নির্দেশেই।

হাওড়া ফুলবাজার থেকে আসত পদ্মফুল, জুঁইফুলের মালা। শুধু তাই নয়, উত্তমের বাড়ির গণেশ পুজো সতীশ ময়রার দোকানের লাড্ডু, মোদক ছাড়া ছিল অসম্পূর্ণ! শোনা যায়, গণপতির সাজ-শৃঙ্গার কীরকম হবে? সেটা নাকি মহানায়ক খোদ স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। আর সেই মাফিকই কিংবদন্তী অভিনেতার বাড়ির গণেশের সাজপোশাকে বজায় রাখা হত আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানা। মহারাষ্ট্রের আদলে নয়, বরং তাঁর গজাননের পরনে থাকত সাদা ধুতি, পৈতে। সেই থেকেই উত্তম-সুপ্রিয়ার ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে শুরু হল গণেশ চতুর্থীর পুজো। বাংলায় তখনও গণেশ চতুর্থী উদযাপনের চল ছিল না। ধুমধাম করে সিদ্ধিদাতার পুজো হত পয়লা বৈশাখেই। সেদিক থেকে দেখলে, মহানায়কই বাংলায় গণেশ চতুর্থী উদযাপনের রূপকার। আর গণপতিই ছিলেন তাঁর ময়রাস্ট্রিটের বাসার ইষ্টদেবতা। তবে গণেশ চতুর্থীতে পুজো শুরু করলেও বাঙালি শিকড়, রীতিনীতি ভোলেননি উত্তম কুমার।

ভোগের দায়িত্ব সামাল দিতেন রন্ধন পটিয়সী সুপ্রিয়াদেবী খোদ। জানা যায়, খিচুড়ি, লাবড়া, পোলাও, আলুর দম, ছানার ডালনা, চাটনি, পায়েসের মতো রকমারি নিরামিষ পদ রান্না করতেন নিজে। গণেশ চতুর্থীর পুজোয় ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ভিড় জমাতেন উত্তম-সুপ্রিয়ার ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে। পুজো শেষ হওয়ার পর ঘরোয়া আড্ডা, গানের জলসা শুরু হত। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে আসর জমাতেন উত্তম নিজেও। একবার নাকি মহানায়কের গণেশ পুজোর জলসায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, উত্তমের যুগলবন্দির সাক্ষী থেকেছিলেন সিনেইন্ডাস্ট্রির অনেকে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • জানেন কি, বাংলায় চতুর্থী উপলক্ষে গণেশ পুজোর চল শুরু হয় বাঙালির একমেবাদ্বিতীয়ম 'ম্যাটিনি আইডল' উত্তম কুমারের হাত ধরেই?
  • কোনও পুরোহিত নন, নিত্যপুজোর ভার নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন উত্তম।
  • উত্তম-সুপ্রিয়ার ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে শুরু হল গণেশ চতুর্থীর পুজো।
Advertisement