হেঁশেলের গণ্ডি পেরিয়ে ডিম এখন বঙ্গ রাজনীতির অঙ্গ। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সহজপাচ্য প্রোটিনের 'আখাড়া' এই ডিম বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতিতে অতিমহার্ঘ্য। রাজনৈতিক ক্ষেপণাস্ত্র, বললেও বিন্দুমাত্র অত্যুক্তি হয় না! দিন কয়েক আগেই সোনারপুরে গিয়ে জনরোষে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিম ছুড়ে মারা হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। তারপর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে ডিমেই ভরসা রেখেছে বঙ্গবাসী! এবার সেই প্রেক্ষিতেই বিজেপির অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূলের উদ্দেশে বিদ্রুপবাণ ছুড়লেন যশ দাশগুপ্ত (Yash Dasgupta)।
"যারা যারা বিজেপি করেছেন, তাদের কী সংঘর্ষ করতে হয়েছে, এতবছর আমরা সবাই জানি। এখানে যদি একেকটা মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয়..."
একুশ সালে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেতা। সেবছর বিজেপির টিকিটে চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটেও লড়েন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। ভোটে পদ্ম শিবিরের বিধ্বংসী পরাজয়ের পর দল থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন যশ। এমনকী পরবর্তীতে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সঙ্গী নুসরত জাহানের সঙ্গে প্রাক্তন শাসক দলের একাধিক অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। কিন্তু বিজেপির কোনও কর্মসূচীতেই দেখা যায়নি যশকে। তবে এবার রাজ্যে পালাবদলের আবহে ফের গেরুয়া শিবিরের অনুষ্ঠানে দেখা গেল তাঁকে। সেখানে দাঁড়িয়েই বাংলার মসনদে বিজেপি আসার জয়োল্লাস প্রকাশ করেন অভিনেতা।
তৃণমূলের উদ্দেশে বিদ্রুপবাণ ছুড়লেন যশ দাশগুপ্ত।
যশকে বলতে শোনা যায়, "৪ তারিখের পর নিশ্চয়ই খুবই ভালো আছেন? আরেকটা জিনিস আমি খবরে দেখছিলাম, দেখে আমার মনে হল, পশ্চিমবঙ্গে এখন বোধহয় ডিমটা খুব সস্তা হয়ে গেছে। যাক গে, সেসমস্ত সম্পর্কে আমি বলব না। যারা যারা বিজেপি করেছেন, তাদের কী সংঘর্ষ করতে হয়েছে, এতবছর আমরা সবাই জানি। এখানে যদি একেকটা মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের সকলের কাছেই একটা গল্প থাকবে যে তাঁদের কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।" আসলে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিজেপি আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেতা। সেখানেই নিজের মায়ের নামে বৃক্ষরোপণ করেন যশ দাশগুপ্ত। পাশাপাশি বঙ্গে গৈরিক সূ্র্যোদয় নিয়ে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন তিনি।
