সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ গেল পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলরের (Congress Councillor)। কে বা কারা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালাল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার জেলাজুড়ে ১২ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের।
ঝালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও তিনজন। ঝালদা-বাগমুণ্ডি সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, সেই সময় বাইকে চড়ে দু-তিনজন ওই রাস্তায় আসে। বাইক থামিয়ে তাদের পথ আটকায়। এরপর ওই কংগ্রেস কাউন্সিলরের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তপন। এরপর দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
[আরও পড়ুন: ইউক্রেনে নিহত ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রাক্তন সাংবাদিক, জখম আরও এক সংবাদকর্মী]
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় কংগ্রেস কাউন্সিলরকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে উদ্ধার করে ১ নম্বর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে রাঁচির হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
কে বা কারা কংগ্রেস কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাল, তা এখনও জানা যায়নি। রাজনৈতিক কারণ নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার জেলা পুলিশ সুপার এস সেলভামুরুগন বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দোষীদের চিহ্নিতকরণের চেষ্টা চলছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পুরভোটে ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে লড়েছিলেন তপন কান্দু। জয়ীও হন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ফের কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন। তৃণমূল প্রার্থী তথা সম্পর্কে ভাইপোকে হারিয়ে এবার পুরভোটে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন তিনি। ওই কাউন্সিলরের স্ত্রীও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে লড়াই করে জয়ী হন। এদিকে, ১২টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট ঝালদা পুরসভার ফলাফল এখনও ত্রিশঙ্কু। কংগ্রেস এবং তৃণমূল এই পুরসভায় ৫টি করে মোট ১০টি আসন পায়। নির্দল বাকি ২টি। ভোটের ফলপ্রকাশের পরই ১ জন নির্দল প্রার্থী তৃণমূলে যোগ দেন। তাই বর্তমানে তৃণমূলের আসন সংখ্যা বেড়ে ৬টি হয়েছে। তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ার ফলে তৃণমূলের পক্ষে এখনও বোর্ড গঠন করা সম্ভব হয়নি।