শচীন তেণ্ডুলকরের থেকে সত্যিই এগিয়ে বিরাট কোহলি? দিন কয়েক আগে দুই ক্রিকেটারের তুলনা করে বিতর্ক বাঁধিয়ে ছিলেন এবি ডি'ভিলিয়ার্স। এবার এক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারও এই নিয়ে মন্তব্য করলেন। এবি'র মতো বিতর্ক বাড়াননি ঠিকই। তবে আকাশ চোপড়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোথায় 'ক্রিকেটের ঈশ্বরে'র থেকেও এগিয়ে 'কিং' কোহলি?
তার জন্য রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ পেশ করেছেন আকাশ। সব মিলিয়ে শচীনকেই এগিয়ে রেখেছেন, শুধু একটি জায়গা ছাড়া। সার্বিকভাবে 'সেনা' দেশগুলি অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে 'পরীক্ষাকেন্দ্র' ধরা হয়েছে। চার দেশে দুই ভারতীয় ক্রিকেটারের মধ্যে কে কেমন খেলেছে?
আকাশ বলছেন, "সেনা দেশগুলিতেই তোমার ক্ষমতা বিচার হবে। এই চার দেশে শচীন পাজি ৬৩ ম্যাচে ৫৩৮৭ রান করেছেন। গড় ৫১.৩০। ১৭ সেঞ্চুরি। সেখানে কোহলি ৪৮ ম্যাচে ৩৭৮১ রান করেছেন। গড় ৪১.৫৪। বোঝাই যাচ্ছে পার্থক্য কতটা বেশি।" তাহলে কোথায় এগিয়ে বিরাট? প্রাক্তন নাইট তারকা আকাশের পর্যবেক্ষণ, "দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাট করা খুব কঠিন। সবাই ওখানে ব্যর্থ হয়। শচীনের গড় সেখানে ৪৬.৪৪। কিন্তু কোহলি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো খেলেছেন। গড় ৪৯.৫০। একমাত্র এখানেই কোহলি শচীনের থেকে গড়ে এগিয়ে আছেন।"
তারপরই আকাশ টেনে এনেছেন ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় দুই ক্রিকেটারের প্রসঙ্গ। ইংল্যান্ডে তো সমসংখ্যক টেস্টে শচীন ও কোহলির গড়ের তফাৎ ২০। আসলে বিলেতভূমে খুব খারাপ একটি সফর কাটিয়েছিলেন কোহলি। সম্ভবত সেটারই প্রভাব পড়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও গড়ে অনেক এগিয়ে শচীন। সেটাই তুলে ধরেছেন আকাশ।
সম্প্রতি বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের মানসিকতায় বদল আনার ক্ষেত্রে কোহলিকে এগিয়ে রেখেছেন এবি ডিভিলিয়ার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকার মতে, বিদেশে গিয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা ভারতীয় ক্রিকেটে অনেকটাই বদলে দিয়েছেন কোহলি। তাঁর সেই আগ্রাসী মনোভাবই পরের প্রজন্মের ব্যাটারদেরও প্রভাবিত করেছে। তবে শুধু টেস্টের হিসাব দেখলে শচীন অনেকটাই এগিয়ে। তিনি ২০০টি টেস্টে ১৫,৯২১ রান করেছেন। ২০১৩ সালে অবসর নেন লিটল মাস্টার। অন্যদিকে, বিরাট কোহলি ১২৩টি টেস্টে ৯,২৩০ রান করে ২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।
