বিশ্বকাপে না থেকেও থাকবে বাংলাদেশ! অন্তত সে দেশের সাংবাদিকরা ভারতে এসে বিশ্বকাপের ম্যাচ কভার করার সুযোগ পাবেন। তেমনই আশ্বাস দিল জয় শাহর আইসিসি। জানিয়ে দেওয়া হল, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিশ্বকাপের খেলা কভার করার অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারটা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। শর্তসাপেক্ষে বেশ কিছু বাংলাদেশি সাংবাদিক ভারতে এসে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে পাবেন।
ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ বয়কট করেছে বাংলাদেশ। সেই সিদ্ধান্তের জেরে সে দেশের সাংবাদিকদেরও ভারতে খেলা কভার করতে আসার অনুমতি দেয়নি আইসিসি! অন্তত এমনটাই দাবি ছিল বিসিবির। বিসিবির তরফে দাবি করা হচ্ছিল, বাংলাদেশের অন্তত ১৫০ জন সাংবাদিককে ভারতে আসার অনুমতি দেয়নি আইসিসি। সকলের অ্যাক্রিডিটেশনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। যাদের অ্যাক্রিডিটেশন মঞ্জুর হয়ে গিয়েছিল, সেটাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ডেলি স্টার সূত্রে খবর, বাংলাদেশ বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের ১৩০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিক টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির কাছে মিডিয়া ছাড়পত্রের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কাউকেই অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়া হয়নি। কয়েকজন চিত্র সাংবাদিককে আগেই ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার পরে তাঁদের অ্যাক্রিডিটেশনও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি করেন আমজাদ।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদসংস্থা পিটিআইকে আইসিসির এক কর্তা জানিয়েছেন, অ্যাক্রিডিটেশনের পুরো ব্যাপারটাই নতুন করে হচ্ছে। যেহেতু আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে ও সূচি বদলেছে তাই সময় লাগছে। নতুন করে সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে সব বাংলাদেশি সাংবাদিক ভারতে এসে খেলা কভার করার সুযোগ পাবেন না। আইসিসির ওই কর্তা জানিয়েছেন, "প্রতিটা দেশের একটা নির্দিষ্ট কোটা থাকে। ৪০ জনের বেশি সাংবাদিককে কার্ড দেওয়া যায় না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি সাংবাদিক কার্ডের আবেদন করেছেন। প্রত্যেককে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। যাঁদের দেওয়া যাবে, তাঁদের দেওয়া হবে।"
বস্তুত বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশক টানা বিশ্বকাপ খেলছে। সে দেশের সাংবাদিকরা বিশ্বকাপ কভার করেন তারও আগে থেকে। তবে এ বছর পরিস্থিতি আলাদা। ভারতে সাংবাদিক, সমর্থক ও ক্রিকেটাররা নিরাপদ নয়। এই যুক্তিতে এ দেশে খেলতে আসেনি বাংলাদেশ। ফলে আইসিসি যদি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিশ্বকাপের কার্ড নাও দেয়, তাতে বলার কিছু থাকে না। তবে এক্ষেত্রে আইসিসি খানিক দয়ালু অবতারে। তাছাড়া, আইসিসি কোনও সময় ভারতে নিরাপত্তার সমস্যার কথা স্বীকারই করেনি। ফলে নিরাপত্তার ইস্যু ধোপে টিকবে না। সম্ভবত সেকারণেই শেষ পর্যন্ত ভিসা দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের।
