বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে বিসিবি সভাপতি আমিনুল হক বুলবুল যে প্রবল চাপে পড়তে চলেছেন, সে ইঙ্গিত ছিলই। হচ্ছেও তেমনটাই। এবার বিসিবির নির্বাচন নিয়ে তদন্ত শুরু করল তারেক রহমানের সরকার। শুধু তাই নয়, সরকার তদন্তের সিদ্ধান্ত নিতেই চাপে পড়ে পদত্যাগ করা শুরু করেছেন বিসিবির একের পর এক পরিচালক।
এমনিতে বাংলাদেশ বোর্ডে ডিরেক্টর অর্থাৎ পরিচালক সংখ্যা ২৫ জন। ওই পরিচালন সমিতিতে শনিবার থেকে গণইস্তফা পর্ব শুরু হয়েছে। দু'দিনে ইস্তফা দিয়েছেন ৭ জন পরিচালক। আসলে তারেক রহমানের সরকার বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ২০২৫ সালের বোর্ডের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি। ওই নির্বাচন নিয়ে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গড়েছে। যার রিপোর্ট পেশ হওয়ার কথা ১৫ দিন পর।
সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার আগেই ৭ ডিরেক্টরের ইস্তফা প্রবল চাপে রাখবে বিসিবি সভাপতি আমিনুলকে। এভাবে পর পর পদত্যাগের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাঁকেও সরে যেতে বাধ্য হতে হবে। আসলে আমিনুলের উপর সরকার চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মত। আর এ সবটাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অতিরিক্ত ভারত বিরোধিতার খেসারত। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার মনে করছে, অহেতুক ভারত বিরোধিতা এবং বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের। বোর্ডের মাথায় 'নিজেদের লোক' বসাতে চায় বাংলাদেশের তারেক রহমানের সরকার।
ইতিমধ্যেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টাও শুরু করেছে বিসিবি। ২০২৫-র জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু সেই সফরে আর যায়নি টিম ইন্ডিয়া। বাংলাদেশের অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন শাসকদের তীব্র ভারত-বিরোধিতা যার নেপথ্যে একটা বড়সড় ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করা হয়। সেই স্থগিত সিরিজটি ফের আয়োজনে আগ্রহী বিসিবি ভারতীয় বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে বলেই খবর। বিসিসিআইকে পাঠানো চিঠিতে বিসিবি বলেছে, এই সিরিজ দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করতে সাহায্য করবে। আরও একটি ব্যাপার হল, ২০২৭-এ এশিয়া কাপ হওয়ার কথা বাংলাদেশে। সেখানে ভারত না গেলে বিপাকে পড়বে বিসিবি। অর্থাৎ সেই টুর্নামেন্ট আয়োজনের অঙ্কও মাথায় রাখছে তারা। ইতিমধ্যে ভারতকে স্বাগত জানানোর জন্য আয়ারল্যান্ড সফরও বাতিল করেছে বাংলাদেশ বোর্ড।
