চ্যাম্পিয়ন হয়েও মহসিন নকভির হাত থেকে ফের ট্রফি নিল না ভারত। অথচ ম্যাচের শুরু থেকে গ্যালারিতে দেখা যায়নি নকভিকে (Mohsin Naqvi)। পাকিস্তান ফাইনালে উঠতে না পারায় তিনি হয়তো আসবেন না, এমনটাই মনে হয়েছিল। কিন্তু খেলার শেষ দিকে দেখা গেল, দেবজিৎ সাইকিয়া (Devajit Saikia) ও রাজীব শুক্লার ঠিক পিছনে বসে রয়েছেন তিনি। খেলা শেষে সাইকিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায় নকভিকে। সেই ছবি সামনে আসতেই প্রশ্ন, ক্রিকেটাররা যখন পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন না, কথা বলছেন না, তখন বোর্ড সচিব কেন নকভির সঙ্গে কথা বললেন?
সমালোচনার জবাবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সাইকিয়া। জানান, নকভির সঙ্গে কথোপকথন ছিল কেবলই সৌজন্যের। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "টস থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সে নিজের নির্দিষ্ট আসনেই ছিলাম। অনেকেই এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে রাজীব শুক্লাও কিছুটা সময় আমার পাশে বসেছিলেন। নকভি আমার পিছনে এসিসির সহ-সভাপতি খালিদের সঙ্গে বসেছিলেন। পরে তিনিই আমার কাছে এসে কথা বলেন। কেউ সৌজন্য দেখালে তাঁকে সৌজন্যের জবাব দিতেই হয়। এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় নেই।"
ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও একই ভাবে অনড় ছিল ভারতীয় বোর্ড, জানিয়েছেন বিসিসিআই সচিব। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ছিল না। আমরা তাঁকে দু'টি অপশন দিয়েছিলাম। প্রথমত, নকভির পরিবর্তে এসিসির সহ-সভাপতি খালিদ আল জারুনির হাত থেকে ভারতীয় দল ট্রফি নিতে পারে। দ্বিতীয়ত, চ্যাম্পিয়ন দলের বোর্ডের কোনও কর্তা ট্রফি তুলে দিতে পারেন। কিন্তু নকভি দু'টি প্রস্তাবই মেনে নেননি। তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তাই আমরাও ট্রফি নিইনি।"
দেশের মানুষের অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। সাইকিয়ার কথায়, "দেশের মানুষের আবেগ ও সম্মানকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। দেশের একটা বড় অংশের মানুষ চান না, আমরা এই দেশের বিরুদ্ধে খেলি। তা সত্ত্বেও আমরা খেলেছি। কিন্তু আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, এই দেশের কোনও ব্যক্তির হাত থেকে আমরা ট্রফি নেব না।" এক বছর আগে সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়াও এশিয়া কাপ জেতার পর ট্রফি নেয়নি। সেই ট্রফি এখনও ভারতে আসেনি। সেই প্রসঙ্গ তুলে সাইকিয়া বলেন, "এক বছর আগে পুরুষ দল কী করেছিল, সেটা আমাদের সামনে রয়েছে। এখনও সেই ট্রফি আমরা পাইনি। প্রতিটি বৈঠকেই ট্রফি ফেরত দেওয়ার বিষয়টি তোলা হয়। পরিস্থিতির যখন কোনও পরিবর্তন হয়নি, তখন মহিলা দল কীভাবে ট্রফি নেবে? গত দেড় বছর ধরে পরিস্থিতি একই রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত দু'টি ট্রফিই ভারতে পাঠানো হোক।"
প্রসঙ্গত, খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পরে শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। গতবার এক ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়েছিল। এবার যেন নকভিও জানতেন, ভারত তাঁর হাত থেকে ট্রফি নিতে মঞ্চে আসবে না। এবং হয়েছেও তাই। মঞ্চেও পর্যন্ত রাখা হয়নি এশিয়া কাপের ট্রফি। প্রশ্ন হল, গতবারের ট্রফিই যখন সূর্যকুমাররা আজও অবধি পাননি। এবার কি হরমনপ্রীতদেরও ‘অপ্রাপ্তি’র পালা? দু’দেশের সম্পর্ক যে এখনও স্বাভাবিক হয়নি, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিসিসিআই সচিব। তাঁর সংযোজন, "সীমান্তে কী পরিস্থিতি, সেটা আমরা সবাই দেখছি। বিষয়টি কারও অজানা নয়। তাই বাইরে থেকে অন্য কিছু দেখানোর কোনও অর্থ নেই। আমাদের বোর্ড দেশের মানুষের পাশে রয়েছে, দেশের সরকারের পাশেও রয়েছে।" কেন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারত? সাংবাদিক সম্মেলনে সেই প্রশ্নের জবাব দেন ভারতীয় দলের কোচ অমল মজুমদার। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের। আমরা সেই সিদ্ধান্তের পাশেই আছি। আমাদের কাছে এই প্রতিযোগিতা শেষ। আমরা চ্যাম্পিয়ন। সেটাই যথেষ্ট।”
