ভারত: ১৮৩/৫ (শেফালি ৬৮, স্মৃতি ৫৯, মিতালি ৩৩/১)
শ্রীলঙ্কা: ১১১/১০ (আতাপাত্তু ৩৬, নীলাক্ষী ২২, চরণী ২০/৪, দীপ্তি ১৯/৩)
৭২ রানে জয়ী ভারত।
চ্যাম্পিয়ন ভারতের সামনে কল্কে পেল না শ্রীলঙ্কা। গোটা ম্যাচে ভারতীয় 'সিংহীবাহিনী'র দাপট দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। চামারি আতাপাত্তুর দলকে ফাইনালে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টম বার এশিয়া কাপ (Women's Asia Cup) ঘরে তুলল হরমনপ্রীত কৌরের ভারত। প্রথমে ব্যাট করে স্মৃতি মন্ধানা এবং শেফালি বর্মার হাফসেঞ্চুরির দৌলতে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে শ্রীলঙ্কার গুটিয়ে গেল ১১১ রানে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। স্লো উইকেটে এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সাহসী। শুরুতে ব্যাটিংয়ের জন্য উপযুক্ত থাকা উইকেট পরে আরও মন্থর হয়ে যায়। তাই পাওয়ার প্লে-তেই বড় রানের ভিত গড়ে দিতে চেয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। সেই কাজটা করে দিলেন দুই ওপেনার। শেফালি এবং স্মৃতি শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ে অভিজ্ঞতার অভাব বুঝে পাওয়ার প্লে-র প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগালেন তাঁরা। হাওয়ায় বল তুলে মারতে দ্বিধা করেননি। প্রথম ছ'ওভারেই আসে ৫৭ রান।
এই এশিয়া কাপে দুরন্ত ছন্দে শেফালি। আগের ম্যাচে ৬৪ রানের পর ফাইনালেও তাঁর ব্যাটে দেখা গেল একই আগ্রাসন। একের পর এক বড় শট খেললেন। করলেন আরও একটি হাফসেঞ্চুরি। অন্যদিকে, হংকংয়ের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করার পর পরের ম্যাচগুলিতে স্মৃতির ব্যাটে বড় রান দেখা যায়নি। ফাইনালে অবশ্য সময় নিয়ে ক্রিজে থিতু হলেন। তারপর গিয়ার বদলালেন। ১১তম ওভারে ভারত ১০০ টপকাল। শেফালির পর হাফসেঞ্চুরি করলেন স্মৃতিও। তখন মনে হচ্ছিল, ভারত অনায়াসেই ২০০ পেরিয়ে যাবে। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন। চামুণ্ডি প্রবোদার বলে চামারি আতাপাত্তুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৯ বলে ৬৮ রানে ফিরলেন শেফালি। ভাঙল ১২৯ রানের দুরন্ত ওপেনিং জুটি।
তিন নম্বরে নেমে স্মৃতির রান আউটের কারণ হয়ে দাঁড়ালেন হরমনপ্রীত। সরাসরি ফিল্ডারের কাছে বল যাচ্ছে দেখেও রান নিতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ক্রিজ ছাড়েন স্মৃতি। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৫৯ রান করে ফিরতে হল তাঁকে। হরমনপ্রীতের নিজের ব্যাটও এদিন সেভাবে চলেনি। চার নম্বরে নেমে রিচা ঘোষ কয়েকটি বড় শট খেললেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আতাপাত্তুর বলে ১৭ রানে ফিরলেন। শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় ভারত। ১৪ রান করে আউট হরমনপ্রীত, ৫ রান করে রান আউট দীপ্তি শর্মা। শেষ পর্যন্ত ১৮৩ রানেই থামতে হয় ভারতকে।
দুবাইয়ের এই মাঠে ১৫০ রানও যে সহজে তাড়া করা যায় না, তা দেখা গিয়েছিল আগের ম্যাচগুলিতে। সেখানে ১৮৪ রানের লক্ষ্য যে পাহাড়সম, শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুতেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। চতুর্থ বলেই ইমিশা দুলানিকে ফিরিয়ে দেন ক্রান্তি গৌড়। আতাপাত্তু অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একা অধিনায়ক কত দূরই বা টানবেন! অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য পেলেন না। ভারতের স্পিনাররা আসার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কাকে পরপর দু'টি বড় ধাক্কা দেন দীপ্তি শর্মা। ২০ রানে বিশমি গুণরত্নে এবং ৩৬ রানে আতাপাত্তুকে ফেরান। এরপর কয়েকটি ক্যাচ এবং রান আউটের সুযোগ নষ্ট না করলে ম্যাচ আরও আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত। ২০তম ওভারের শেষ বলে শ্রীলঙ্কার শেষ উইকেট পড়ল। ভারতের হয়ে শ্রী চরণী নিলেন চার উইকেট। দীপ্তির ঝুলিতে তিনটি। শেফালি, ক্রান্তি এবং প্রেমা রাওয়াত নিলেন একটি করে।
