ভদ্রলোকের এক কথা! চ্যাম্পিয়ন হয়েও মহসিন নকভির হাত থেকে ফের ট্রফি নিল না ভারত। প্রায় এক বছর বছরের কথা। এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। খেতাব জয়ের পর কেটে গিয়েছে বহুকাল। এখনও সেই ট্রফি হাতে পায়নি ভারত। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেছিল ভারতীয় দল। সেই দৃশ্যরই পুনরাবৃত্তি মহিলাদের এশিয়া কাপেও (Women’s Asia Cup 2026)। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে মহিলাদের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হলেও নকভির হাত থেকে ট্রফি নিলেন না হরমনপ্রীত কৌররা।
ম্যাচের শুরু থেকে গ্যালারিতে দেখা যায়নি নকভিকে। পাকিস্তান ফাইনালে উঠতে না পারায় তিনি হয়তো আসবেন না, এমনটাই মনে হয়েছিল। কিন্তু খেলার শেষ দিকে দেখা গেল, দেবজিৎ সাইকিয়া ও রাজীব শুক্লার ঠিক পিছনে বসে রয়েছেন তিনি। তখনই মনে হয়েছিল, এমনই কিছু ঘটতে চলেছে। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পরে শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। গতবার এক ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়েছিল। এবার যেন নকভিও জানতেন, ভারত তাঁর হাত থেকে ট্রফি নিতে মঞ্চে আসবে না। এবং হলও তাই। মঞ্চেও পর্যন্ত রাখা হয়নি এশিয়া কাপের ট্রফি। প্রশ্ন হল, গতবারের ট্রফিই যখন সূর্যকুমাররা আজও অবধি পাননি। এবার কি হরমনপ্রীতদেরও 'অপ্রাপ্তি'র পালা?
এবার যেন নকভিও জানতেন, ভারত তাঁর হাত থেকে ট্রফি নিতে মঞ্চে আসবে না। এবং হলও তাই। মঞ্চেও পর্যন্ত রাখা হয়নি এশিয়া কাপের ট্রফি।
ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর মাঠে নিজেদের মতো করে সেলিব্রেশন শুরু করে ভারতীয় দল। কোচ অমল মজুমদারকে ঘিরে ছিলেন ক্রিকেটারেরা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা নিজেরাই দলের পদক তুলে দেন। নন্দিনী শর্মার হাতে ফিল্ডিং মেডেলও তুলে দেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়া ও সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা। এর মধ্যেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন নকভি। সরকারি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। শুরুতে আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি এবং শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের হাতে মেডেল তুলে দেওয়া হয়। রানার্স-আপের চেক শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে দেন নকভি। তার পরেই সঞ্চালক পারভেজ মাহরুফ জানিয়ে দেন, অনুষ্ঠান এখানেই শেষ। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মঞ্চের চৌহদ্দিতেও দেখা গেল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্যান্য এসিসি কর্তাদের সঙ্গে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় নকভিকে। ট্রফিও তাঁর সঙ্গে ছিল না।
এশিয়াসেরা ভারতের মেয়েরা। ছবি বিসিসিআই।
কেন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারত? সাংবাদিক সম্মেলনে সেই প্রশ্নের জবাব দেন ভারতীয় দলের কোচ। তিনি বলেন, "এই সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের। আমরা সেই সিদ্ধান্তের পাশেই আছি। আমাদের কাছে এই প্রতিযোগিতা শেষ। আমরা চ্যাম্পিয়ন। সেটাই যথেষ্ট। বড় বোর্ডেও লেখা হয়েছে, ভারত ২০২৬ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন।" তিনি আরও বলেন, "চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে খুব খুশি। এখন এশিয়ান গেমসের দিকে তাকিয়ে। এই দলের প্রত্যেককে নিয়ে আমি গর্বিত। খেলোয়াড় থেকে সাপোর্ট স্টাফ, প্রত্যেকের অবদান রয়েছে।" তবে শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপের ট্রফি ভারতীয় দলের হাতে কবে পৌঁছবে? কোচ অমলের কাছেও সেই উত্তর নেই। "কবে এবং আদৌ ট্রফি আমরা পাব কি না, সেটা আমি জানি না," মন্তব্য তাঁর।
রানার্স-আপের চেক শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে দেন নকভি। তার পরেই সঞ্চালক পারভেজ মাহরুফ জানিয়ে দেন, অনুষ্ঠান এখানেই শেষ। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মঞ্চের চৌহদ্দিতেও দেখা গেল না।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়ন। এশিয়া কাপেই শুরু হয়েছিল করমর্দন-বিতর্ক। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতের ক্রিকেটারেরা। পরে পুরস্কারও নেননি সূর্যকুমার যাদবরা। সেই বিতর্কের রেশ গড়িয়েছে অনেক দূর। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও নকভি গতবারের ট্রফি ভারতে পাঠাননি। এবারও সেই পুরনো ছবিরই পুনরাবৃত্তি।
