shono
Advertisement
CAB

লোধা আইনকে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখানোর শাস্তি! মদন ঘোষকে পদ থেকে সরাল সিএবি

বিগত কয়েক দিন ধরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নিজের চেয়ারে বহাল তবিয়তে বসে থাকা মদন ঘোষকে নিয়ে বড়সড় ঝঞ্ঝাটে জড়িয়েছিল সিএবি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুগ্ম সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 02:21 PM Jun 03, 2026Updated: 02:21 PM Jun 03, 2026

বিগত কয়েক দিন ধরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নিজের চেয়ারে বহাল তবিয়তে বসে থাকা মদন ঘোষকে নিয়ে বড়সড় ঝঞ্ঝাটে জড়িয়েছিল সিএবি। লোধা কমিটির নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি পদে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, তিনি না হয় ক্ষমতা ছাড়তে চাইছেন না। কিন্তু তাঁকে যুগ্ম সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দিতে সিএবি কেন কোনও পদক্ষেও নিচ্ছে না। সঙ্গে মদনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল।

Advertisement

প্রশাসনিক পদে মদন ঘোষের মেয়াদ ২১ মে শেষ হয়। বাস্তবিকই আগামী ২১ মে সত্তর বছরে পা দেন মদন ঘোষ। লোধা আইন অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেট সংস্থার পদাধিকারীর বয়স সত্তর হয়ে গেলে তিনি সেই পদে থাকতে পারবেন না। তাঁকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। ঠিক যে ভাবে প্রাক্তন ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট রজার বিনি সরে গিয়েছিলেন পদ থেকে। এমনকী সৌরভকেও লোধা আইন মেনে ‘কুলিং অফ’ পিরিয়ডে যেতে হয়েছিল। অভিযেক ডালমিয়া, বিশ্বরূপ দে, সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়দেরও সরে যেতে হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, সিএবি মদন ঘোষকেও পদ ছেড়ে চলে যেতে হবে। এটাই নিয়ম। কিন্তু তার পরেও দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে বহাল তবিয়তে পদ আঁকড়ে ছিলেন তিনি। এবার তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল।

তাছাড়াও টুর্নামেন্ট হারার ‘শাস্তি’ হিসাবে প্রথমে বাংলার জুনিয়র ক্রিকেটারদের ফ্লাইটের বদলে বাসে করে শহরে ফেরানো। খরচ বাঁচাতে প্রথম ডিভিশনের ক্রিকেট থেকে আকস্মিক তৃতীয় আম্পায়ার তুলে দেওয়া। নানাবিধ বিতর্কে সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের নাম পূর্বে জড়িয়েছিল। তাছাড়াও সিএবি-র আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘বচসা’ বাঁধিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। অর্থাৎ সদ্য প্রাক্তন সিএবি যুগ্ম সচিবের ‘আচরণ’ নিয়ে ভালো রকম ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়।

এমনকী আম্পায়ার মহলেরও অভিযোগ ছিল, মদন নিজের ইচ্ছেমতো আম্পায়ার্স পোস্টিং দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেন। যার পুনরাবৃত্তি হয় অনূর্ধ্ব ১৮-র ম‌্যাচে। মনে করার কোনও কারণ নেই যে, বিবাদের সেখানেই শেষ হয়েছে। গন্ডগোলের পরের পর্ব সিএবি যুগ্ম সচিবের ঘরে ‘অনুষ্ঠিত’ হয়। সিএবি যুগ্ম সচিবকে নাকি প্রসেনজিৎ বলে দেন, তিনি তিনজন সিএবি প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করেছেন আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান হিসাবে। কোথাও তাঁকে এ জিনিসের সম্মুখীন হতে হয়নি। তাছাড়া সিএবিতে কোনও পদাধিকারী বেতনভুক নন। সবাই সাম্মানিক পদে রয়েছেন। তাই এক্ষেত্রে কেউ ঊর্ধ্বতন, কেউ অধস্তন নন। পরের অভিযোগ আরও গুরুতর। উত্তেজিত সিএবি যুগ্ম সচিব নাকি তখন আম্পায়ার্স কমিটির প্রধানকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন! সব মিলিয়ে আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান কিছু না বললেও সিএবি-র অন্দরে রুষ্ট বলাবলি চলে, প্রশাসনিক পদে যাঁর মেয়াদ আগামী ২১ মে শেষ হয়ে গেলেও যুগ্ম সচিব এত ‘ঔদ্ধত‌্য’ দেখাতে পারেন কী করে? এবার সেই মদন ঘোষকে সরিয়ে দিল সিএবি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement