shono
Advertisement
CAB

‘বাতিল’ তালিকায় প্রায় ৫০০, স্বাধীনতা দিবসের মধ্যে সংশয়-মুক্ত ক্রিকেটার-তালিকা প্রকাশ সিএবির

স্থানীয় ক্রিকেটে দলবদলের আর মাসখানেক বাকি। কিন্তু তার আগে অভূতপূর্ব এক ‘ফাঁসে’ পড়েছে বাংলার ক্লাবগুলো।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 10:44 AM Jul 27, 2026Updated: 10:44 AM Jul 27, 2026

স্থানীয় ক্রিকেটে দলবদলের আর মাসখানেক বাকি। কিন্তু তার আগে অভূতপূর্ব এক ‘ফাঁসে’ পড়েছে বাংলার ক্লাবগুলো। দলবদলের একমাস আগেও তারা বুঝতে পারছে না, কোন ক্রিকেটারের সঙ্গে তারা চুক্তি করতে পারবে, আর কোন ক্রিকেটারের সঙ্গে পারবে না! কারণ? খুব সহজ– ক্লাবগুলো জানেই না স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ‌্যে কারা বাংলার, আর কারা নন!

Advertisement

এবং এ হেন দশার নেপথ‌্যে, বোর্ড নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেটারদের আধার হিস্ট্রি আপডেট নিয়ে সিএবির ছানবিন। ভারতীয় বোর্ড এ বছর থেকে আধার আপডেট নিয়ে অত‌্যাধিক কড়াকড়ি করছে। যে কারণে, প্রতিটা ক্রিকেটারের আধার আপডেট হিস্ট্রি চেক করে দেখতে হচ্ছে সিএবিকে! যার পরিণাম হিসাবে প্রচুর ক্রিকেটারের ভবিষ‌্যতে বাংলায় খেলা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে রয়েছে। আধার হিস্ট্রি আপডেট খতিয়ে দু’টো জিনিস দেখা হচ্ছে। প্লেয়ারের জন্মতারিখ এবং বাসস্থান-জনিত কোনও সংশয় বা জটিলতা রয়েছে কি না? সিএবি সূত্রের খবর, আধার কার্ড হিস্ট্রি আপডেট খতিয়ে দেখতে গিয়ে, প্রায় সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশো ক্রিকেটার সংশয়-তালিকায় পড়ে গিয়েছেন ইতিমধ‌্যে! বোর্ড প্রদত্ত আধার কার্ড আইনের শর্তাবলি যাঁরা পূরণ করতে পারেননি! সিএবি বলছে, আগামী ১৫ আগস্টের মধ‌্যে সমস্ত ঝাড়াই-বাছাই সম্পন্ন হয়ে যাবে। সমস্ত শেষ করে, সংশয়-মুক্ত ক্রিকেটারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ‌্য করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই ঝাড়াই-বাছাই শেষে বাংলায় ‘বাতিল’ ক্রিকেটারদের তালিকা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, কেউ জানে না!

এ হেন দশার নেপথ‌্যে, বোর্ড নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেটারদের আধার হিস্ট্রি আপডেট নিয়ে সিএবির ছানবিন। ভারতীয় বোর্ড এ বছর থেকে আধার আপডেট নিয়ে অত‌্যাধিক কড়াকড়ি করছে।

ইতিমধ‌্যেই যেমন বাদ পড়ে গিয়েছেন অনূর্ধ্ব উনিশ ভারতের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে দারুণ পারফর্ম করা রোহিত যাদব। কিন্তু আধার কার্ড আপডেট হিস্ট্রিতে জটিলতা থাকায় তাঁকে বাংলার স্কোয়াডে রাখা যায়নি। বিভিন্ন বছর মিলিয়ে তাঁর আধার কার্ড হিস্ট্রি আপেডট করা হয়েছে সাত-সাত বার! যার ফলে রোহিতের পক্ষে বাংলায় আর খেলা সম্ভব হবে না। সিএবি সূত্রের খবর, রোহিতকে সেই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু কী হবে মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ, শাহবাজ আহমেদদের? যাঁরা জন্মগত ভাবে বাংলার না হলেও, বাংলার হয়েই এতদিন খেলেছেন। গত ৯ জুলাই, যে সমস্ত সিনিয়র বাংলা ক্রিকেটার আধার-শর্তাবলি পূরণ করতে পেরেছিলেন, যাঁদের কাছে ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট-সহ আরও বিবিধ আনুষঙ্গিক নথি চেয়ে পাঠিয়েছিল সিএবি, সেই তালিকায় উপরোক্ত তিনজনের নাম ছিল না (যে চিঠি সই করেছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ‌্যায় স্বয়ং)। সিএবি-র দাবি, ক্রিকেটারদের নথি জমা করার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এবং আকাশ-মুকেশ-শাহবাজরা পরে সমস্ত নথি জমা করেছেন। আকাশ-মুকেশ নিয়ে আরও একটা জটিলতা রয়েছে। তাঁরা দু’জনেই বিহারের ডিএসপি হয়ে গিয়েছেন। যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ‌্যায় বললেন, ‘‘এটুকু বলব, আকাশ-মুকেশ বাংলার হয়েই খেলবে। অতীতে রেলের ক্রিকেটার কি বাংলার হয়ে খেলেনি? ওরা ছাড়পত্র পেয়ে গেলেই তো খেলতে পারবে বাংলার হয়ে।’’

কিন্তু কী হবে মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ, শাহবাজ আহমেদদের? যাঁরা জন্মগত ভাবে বাংলার না হলেও, বাংলার হয়েই এতদিন খেলেছেন।

সোমবার আধার হিস্ট্রি আপেডট বিষয়ে সমস্ত রাজ‌্য ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ভারতীয় বোর্ড । সিএবির কাছে বেসরকারি খবর, সম্প্রতি যাঁরা আধার কার্ড হিস্ট্রি আপডেট করেছেন, তাঁদের খেলার ক্ষেত্রেই হয়তো শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। সেক্ষেত্রে মুকেশ-আকাশ-শাহবাজরা এমনিই সেই আওতায় পড়বেন না। সিএবি নিজেরাও একটা ‘বেঞ্চমার্ক’ তৈরি করেছে। বলা হচ্ছে, গত তিন-চার বছরে যাঁদের আধার আপডেট হয়েছে, তাঁরা খেলতে পারবেন না বাংলায়। প্লাস, ভিন রাজ‌্যের কোনও ক্রিকেটার আর আধার কার্ড পরিবর্তন করে স্থানীয় লিগে খেলতে পারবেন না। তাঁকে খেলতে হলে, ভিন রাজ‌্যের ক্রিকেটার হিসেবেই খেলতে হবে। সিএবি-র বক্তব‌্য, খেলার মান যদি তাতে কমে, কমবে। কিন্তু ভূমিপুত্রদের খেলানোর উপরেই জোর দেওয়া হবে।

মজার হল, বঙ্গ ক্রিকেটে আধার আপেডট হিস্ট্রি চেক করার প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয়। কয়েক বছর আগে অভিষেক ডালমিয়া সিএবি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন স্থানীয় ক্রিকেটে এ রকম ‘ধরপাকড়’ শুরু হয়েছিল। পরিণতি হিসাবে, পঞ্চাশ জন ক্রিকেটারকে নির্বাসিতও করা হয়। অভিষেককে জিজ্ঞাসা করা হয় এ নিয়ে। তিনি বলেন, ‘‘ঠিকই কথাটা। আমি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলাম, আমরা আধার আপডেট রেকর্ড দেখেছিলাম। একটা ভেরিফিকেশন সেলও গঠন করে দিয়েছিলাম। যাতে স্থানীয় ছেলেদের নির্ধারিত জায়গায়, স্থানীয়রাই খেলে। মাঝে কী হয়েছে, বলতে পারব না। কিন্তু আগাগোড়া যদি সে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তা হলে সমস‌্যা হওয়ার তো কথা নয়।’’ সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি বলতে পারব না, সেই ভেরিফিকেশন সেল রয়েছে কি না এখনও। যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরাই পুরোটা বলতে পারবেন। এটুকু শুধু বলতে পারি, আমার সময় পঞ্চাশ জন বাদ পড়েছিল। তবে আমরা যে প্রসেসটা শুরু করেছিলাম, তা যদি অনুসরণ করা হত, এত অসুবিধে হয়তো হত না।’’

বঙ্গ ক্রিকেটে আধার আপেডট হিস্ট্রি চেক করার প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয়। কয়েক বছর আগে অভিষেক ডালমিয়া সিএবি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন স্থানীয় ক্রিকেটে এ রকম ‘ধরপাকড়’ শুরু হয়েছিল।

প্রশ্ন হল, সিএবিতে যদি এই প্রক্রিয়া পূর্বে থেকে থাকে, তা হলে মাঝের কয়েক বছরে তা বন্ধ থাকল কেন? কোন কারণে? কর্তারা বোর্ডের নির্দেশিকা পাওয়ার পর ‘জেগে’ উঠলেন কেন? ‘স্বতঃস্ফূর্ত উদ‌্যোগ’ বলে তো একটা কথা রয়েছে বাংলা অভিধানে। সেটা সিএবি ভুলে গেল কোন যুক্তিতে? দ্বিতীয়ত, বাতিল ক্রিকেটারের তালিকায় শেষ পর্যন্ত পাঁচশো থাকবেন না হাজার– জানা নেই। কিন্তু একটা বিষয় জানা। গত বছর স্থানীয় ক্রিকেটে সেই সমস্ত ‘ভিনরাজ‌্যে’র ক্রিকেটারদের দাপিয়ে খেলার দায় কিন্তু সিএবির উপরেই পড়বে!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement