১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২। এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ৮ রানে হারিয়ে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ভারত। প্রথম টেস্টজয়ী দলে ছিলেন সিডি গোপীনাথ। করেছিলেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ৩৫ রান। প্রথম টেস্টজয়ী দলের শেষ সদস্য গোপীনাথ প্রয়াত হলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের আদিয়ারে কন্যার বাড়িতে ঘুমের মধ্যেই দেহাবসান হয়েছে তাঁর। ২০২৪ সালে দত্তা গায়কোয়াড়ের মৃত্যুর পর তিনিই ছিলেন প্রথম টেস্টজয়ী দলের শেষ জীবিত সদস্য। তাঁর মৃত্যুর পর ভারতের প্রবীণতম জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের তকমা উঠে গেল চন্দ্রকান্ত পাটঙ্করের কাঁধে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে গোপীনাথের কেরিয়ার সংক্ষিপ্ত। মাত্র ৮টি টেস্টে ২৪২ রান করেন। যার মধ্যে একটি অর্ধশতরান ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৫১ সালে মুম্বইয়ের ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচেই ৫০ ও ৪২ রানের ইনিংস খেলে নজর কেড়েছিলেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অবশ্য তিনি ছিলেন অনেক বেশি সফল। মাদ্রাজের হয়ে খেলতে নেমে ৮৩ ম্যাচে ৪,২৫৯ রান করেছিলেন। গড় ৪২। সঙ্গে ৯টি শতরান। ১৯৫৮-৫৯ মরশুমে মাইসুরুর বিরুদ্ধে ২৩৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।তাছাড়াও নিউজিল্যান্ডে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে ১৭৫ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস আজও স্মরণীয়। বিপক্ষ দলে ছিলেন বার্ট সাটক্লিফ ও জন রিডের মতো তারকা।
ক্রিকেট জীবন শেষ হওয়ার পরও ক্রিকেটের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলেন গোপীনাথ। তিনি ভারতের প্রধান নির্বাচক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে দলের ম্যানেজারও ছিলেন। সেই সফরেই সুনীল গাভাসকরের ঐতিহাসিক ২২১ রানের ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। জীবনের শেষ পর্যায়েও এসেও আধুনিক ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল অটুট। চেন্নাই সুপার কিংসের আদ্যোপান্ত এই সমর্থকের মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ।
চার বছর আগে ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে রসিকতার ছলে তিনি বলেছিলেন, “দেখো, দীর্ঘ জীবনের সুবিধা এটাই, তুমি গল্পটাকে বারবার নতুন করে বলতে পারো। সবাই আমাকে বয়সের সুবিধা দেবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ‘বেনিফিট অফ ডাউট’ সবসময় ব্যাটাররাই পায়!” ধোনির নিয়ে গোপীনাথের মন্তব্য, “দলের সঙ্গে সবকিছু বদলায়, ক্রিকেটও তার ব্যতিক্রম নয়। আমি মূলত ধোনির জন্যই সিএসকে-কে সমর্থন করি। ওর খেলার ধরনটাই আলাদা। মাঠে বাড়াবাড়ি কোনও ভঙ্গি বা অশোভন আচরণ করে না। এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে।” উল্লেখ্য, ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৬২-৬৩ মরশুম পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে তৎকালীন মাদ্রাজকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গোপীনাথ।
