প্রথম ম্যাচ হারের পর দুষেছিলেন অস্ট্রেলিয়া বোর্ডকে। 'ক্যামেরন গ্রিনকে বল করানো যাবে না' নির্দেশিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। চতুর্থ ম্যাচে এসে গ্রিন বল করলেন। এবার তিনি-অজিঙ্ক রাহানে কার দিকে আঙুল তুলবেন? নিজের অধিনায়কত্ব? নাকি নিজের ফিল্ডিং? বিপক্ষের সাত উইকেট ফেলে দিয়েও বৃহস্পতিবার জিততে পারল না কেকেআর। ম্যাচ বের করে নিয়ে গেলেন এক অখ্যাত মুকুল চৌধুরী। তার দায় কে নেবে?
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়কোচিত ইনিংস এল রাহানের ব্যাট থেকে। ব্যাট করার জন্য সেরকম সহজ ছিল না বৃহস্পতিবারের ইডেন। তার মধ্যেও ২০ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেললেন রাহানে। কিন্তু স্রেফ ব্যাটিং করে তো ম্যাচ জেতা যায় না। দ্বিতীয় ইনিংসের অনেকটা সময় ম্যাচ ছিল নাইটদের নিয়ন্ত্রণে। সেখান থেকে হারার অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে থেকে যাবে নেতা রাহানের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত।
এদিন প্রথম একাদশে রাখা হয়নি বরুণ চক্রবর্তীকে। বিশ্বকাপ থেকে খারাপ ফর্মে রয়েছেন তারকা স্পিনার। টসের সময় রাহানে জানালেন, হাতের চোট না সারায় খেলছেন না বরুণ। কিন্তু এদিন প্রথম একাদশে ফিরেই ভেলকি দেখালেন সুনীল নারিন। চার ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তুলে নিলেন এক উইকেট। আরেক স্পিনার অনুকূল রায়ের খাতায় দুই উইকেট, ৩২ রান দিয়ে। কে বলতে পারে, বরুণের স্পিন এদিন ইডেনে কামাল করতে পারত না? কেকেআর তো বরাবর ইডেনে ঘূর্ণি পিচ চেয়ে এসেছে। এদিনও ইডেনের বাইশ গজ সাহায্য করেছে নাইট স্পিনারদের।
বরুণকে ছাড়াও জিতে যাওয়ার আশা ছিল কেকেআরের। সেটা যে হল না, তার জন্য রাহানেকে দায়ী করা যেতেই পারে। 'ক্যাচেস উইন ম্যাচেস' কথাটা পুরনো হলেও কতখানি সত্যি, সেটা প্রমাণ হল এদিনের ইডেনে। মারমুখী হয়ে ওঠা মুকুলকে আউট করতে ১৯ ওভারের প্রথম বলেই স্লোয়ার বলের ফাঁদ পেতেছিলেন গ্রিন। লোপ্পা শট মারেন মুকুল, কিন্তু রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ক্যাচ ছাড়লেন রাহানে। সেখান থেকে আর থামানো যায়নি মুকুলকে। শেষ ওভারের প্রথম বলে আভেশ খান সিঙ্গেল নিয়ে মুকুলকে স্ট্রাইক দেবেন, সেটা অতি সহজেই হতে দিল রাহানের ফিল্ড সেটিং। তারপরেও প্রশ্ন উঠবে না রাহানের নেতৃত্ব নিয়ে?
