বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মাথায় বসেছেন তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)। নতুন এই পথচলা শুরু করতেই বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের আর্থিক বৈষম্য দূর করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি। বিসিবি'র অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম সেদেশের নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সম্প্রতি ১১ সদস্যের একটি কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পান তামিম। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, নারী ক্রিকেটাররা একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে পেতেন মাত্র ১,০০০ টাকা। যা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। এরপরেই ক্রিকেটারদের জন্য একগুচ্ছ সুখবর দেন তিনি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, মহিলা ক্রিকেটাররা এখন ওয়ানডে ম্যাচে পাবেন ১৫ হাজার টাকা, দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচে ২০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার টাকা। এছাড়া দেশের শীর্ষ ৩৬ জন মহিলা ক্রিকেটারের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তামিম বলেন, "সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটা অবশ্যই ইতিবাচক। একসঙ্গে কতটা বেতন বৃদ্ধি করা সম্ভব, তারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।" অন্যদিকে, পুরুষ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে পারিশ্রমিক। ক্যাটাগরি 'এ' ক্রিকেটাররা পাবেন ৬৫ হাজার টাকা। 'বি' ক্যাটাগরির জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং 'সি' ক্যাটাগরির জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ টাকা।
বাংলাদেশের হয়ে ৩৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ৩৭ বছর বয়সি তামিম স্বীকার করেছেন, এতদিন ঘরোয়া ক্রিকেটাররা যথেষ্ট পারিশ্রমিক পেতেন না। তিনি বলেন, "গত তিন-চার বছরে খুব একটা বেতন বাড়েনি। আমার মনে হয়, আগের কাঠামোয় ক্রিকেটাররা অনেক কম বেতন পেতেন। খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমেই ক্রিকেট টিকে আছে। তাঁরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য।" তিনি আরও বলেন, "গত দেড় বছরে ক্রিকেটের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তা সবাইকে মিলে ঠিক করতে হবে। আমরা ভালো করি বা খারাপ, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু কেউই চায় না ক্রিকেট এই অবস্থায় থাকুক।"
তাঁর কথায়, "আমরা সবসময় চাই ক্রিকেট গর্বের জায়গা হোক। বিসিবি'র সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা যেন গর্ব করে বলতে পারে, এটাই আমাদের জায়গা। সেই গর্ব এখন ফিরিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ।" এদিকে তামিমের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব)। এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, 'ঘরোয়া ক্রিকেটে পারিশ্রমিক বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখবে। এর সুফল খুব দ্রুতই দেখা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।'
