আগেও বেশ কয়েকবার জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির রিহ্যাব প্রসেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার জশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সলেন্সের (সিওই) কার্যকলাপে জাতীয় নির্বাচকদের অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে হল। ইংল্যান্ডে দ্বিতীয় ওয়ান ডে'তে চোট পেয়েছিলেন বুমরাহ। ফলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টে বুমরাহর খেলা নিয়ে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে দু'দিন আগেই এক বোর্ড কর্তা দাবি করেছিলেন, বুমরাহর ফিটনেস নিয়ে আর কোনও সমস্যা নেই। তিনি শ্রীলঙ্কা সফরে দুটো টেস্টে খেলতে পারবেন। কিন্তু তারপর ফের জানানো হয়, বুমরাহ সিরিজের বাইরে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটমহলে। বলা হচ্ছে, দু'দিন আগে যদি কোনও ক্রিকেটারকে ফিট ঘোষণা করে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি কীভাবে ফের চোট নিয়ে আবার সিরিজের বাইরে চলে যাচ্ছেন? চোট-আঘাত সমস্যা ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। ক্রিকেটে চোট-আঘাত লাগতেই পারে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে যেভাবে টানা এই সমস্যা চলছে, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
হর্ষিত রানার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও প্রকট হয়েছিল। অভিযোগ উঠছে, কীভাবে অতিরিক্ত ওজন থাকার পরও হর্ষিতকে ফিট ঘোষণ করা হয়েছিল! পরে আবার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান হর্ষিত। ইংল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টিতে এক তারকা ব্যাটারের ওজন অনেকটাই বেশি ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক বিদেশ সফরের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট বাধ্যতামূলক। প্রত্যেককে সেন্টার অব এক্সলেন্সে গিয়ে ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। তাহলে কীভাবে ওই ক্রিকেটারকে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হল? নীতীশ কুমার রেড্ডি যেমন ফ্রিলান্স বোলিং কোচ স্টেফান জোন্সের কাছে আলাদাভাবে প্র্যাকটিস করছেন। বলের গতি বাড়ানোর ট্রেনিং করছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রেড্ডি কি আলাদাভাবে প্র্যাকটিসের জন্য সিওএ-র থেকে অনুমতি নিয়েছেন? ওয়াশিংটন সুন্দরের ব্যাপারটাও একইরকম। তিনিও চোট-আঘাত সমস্যায় ভুগছেন। বোর্ডের এক কর্তা সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, "আমাদের বলা হয়েছে, সাই সুদর্শন নেটে ৭৫ মিনিট করে ব্যাটিং করছে। দ্রুত সাই ফিট হয়ে উঠছে। এখন তারপর যদি নির্বাচকদের বলা হয় সাইয়ের প্রথম টেস্টে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তখন কী হবে?"
নীতিন প্যাটেল দায়িত্ব ছাড়ার পর সেন্টার অব এক্সলেন্সে স্পোর্টস সায়েন্স টিমের প্রধান হিসাবে পাকাপাকিভাবে কাউকে এখনও নিয়ে আসা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে রয়েছেন ধনঞ্জয় কৌশিক। তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠার জায়গা নেই। কিন্তু ক্রিকেটারদের চোট সারিয়ে ফেরার ক্ষেত্রে 'রিটার্ন টু প্লে' প্রোটোকল মানা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একইরকম প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ভারতীয় টিমের ফিজিও কমলেশ জৈনও। শোনা যাচ্ছে, তাঁর পারফরম্যান্সেরও রিভিউ হতে পারে। এটাও শোনা যাচ্ছে রিভিউ বৈঠক হবে। যেখানে ভারতীয় কোড গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর, 'সিওই' প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ আর বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া থাকবেন। ভারতীয় টিম চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা উড়ে যাচ্ছে। ফলে বৈঠক অনলাইনে হবে কি না, সেটা স্পষ্ট নয়। একইসঙ্গে এটাও প্রশ্ন উঠছে-ইংল্যান্ড সফরের পর সবাই দেশেই ছিলেন। তাহলে কেন ওই সময় বৈঠক হল না? সবমিলিয়ে চোট-আঘাত সমস্যা নিয়ে ভারতীয় দল যে বেশ চাপে, সেটা বলে দেওয়াই যায়।
