আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই ছন্দহীন। আয়ারল্যান্ডে রান পাননি। জিম্বাবোয়ে সফরেও পারফরম্যান্স তথৈবচ। বারবার বোলারদের ট্র্যাপে পড়ে আউট হয়েছেন। তিন ম্যাচে করেছেন যথাক্রমে ১, ৮ ও ২। এমন ছন্দহীনতার পর সমালোচিতও হতে হয়েছে অভিষেক শর্মাকে। এবার হয়তো জবাব দেওয়ার পালা। কারণ ব্যাট কথা বললেই মুখ বন্ধ হবে নিন্দুকদের। সেটাই করে দেখালেন ‘শর্মাজি কা বেটা’। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ওয়ানডেতে ডবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন বাঁহাতি তারকা।
পঞ্জাব আন্তঃজেলা সিনিয়র প্রতিযোগিতায় অমৃতসরের হয়ে নেমেছিলেন তারকা ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান না পাওয়ার যন্ত্রণা হয়তো কুরে কুরে খাচ্ছিল তাঁকে। অভিষেককে যাঁরা কাছ থেকে চেনেন, তাঁরা জানেন, যেদিন তাঁর ব্যাট চলবে সেদিন বোলারদের দর্শক হওয়া ছাড়া অন্য উপায় নেই। মাত্র ৯১ বলে ২৩৩ রানের ‘সুপার সাইক্লোনিক’ ইনিংস খেললেন। তাঁর ইনিংস সাজানো ১৫টি চার ও ২৫টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ২৫৬.০৪।
রবিবার অমৃতসরের গান্ধী গ্রাউন্ডে হওয়া এই ম্যাচে শুরু থেকে তুরীয় মেজাজে ছিলেন অভিষেক। তরন তারণের বোলারদের একেবারেই রেয়াত করেননি। অভিষেকের মারকাটারি ইনিংসের সৌজন্যে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৫৩৩ রানের পাহাড় গড়ে অমৃতসর। অভিষেকের বিধ্বংসী ইনিংসের ভিডিও এবং স্কোর কার্ড সোশাল মিডিয়ায় এখন রীতিমতো ভাইরাল। তাঁর ইনিংসকে ‘স্টেটমেন্ট নক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নেট নাগরিকরা। আর মাঠে যাঁরা ভিড় জমিয়েছিলেন, তাঁদের একেবারে ‘পয়সা উসুল’।
বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের আইসিসি ক্রমতালিকার শীর্ষে থাকা অভিষেক এখন তিন নম্বরে। জিম্বাবোয়ে সফরে তিন ইনিংসে তাঁর রান ছিল মাত্র ১১। গড় ৩.৬৬। এর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ১৩১ রান। গড় ২৬.২। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচে ৪৯ রান। গড় ২৪.৫। শেষ ১০ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র একটি হাফসেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অফস্পিনের বিরুদ্ধে একাধিকবার উইকেট দিয়ে এসেছেন। বিশ্বকাপের পরেও বিপক্ষ দলের অধিনায়ক সেই দুর্বলতায় বারবার আঘাত হেনেছেন। পরিসংখ্যানও সেই ছবিই তুলে ধরছে। বিশ্বকাপের আগে অভিষেকের গড় ছিল ৩৭.০৫। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯৫। বিশ্বকাপের পর সেই গড় নেমে এসেছে ১৯.৪-এ। স্ট্রাইক রেটও কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৫-এর আশপাশে। সেই কারণে অনেকেই মনে করছেন, ২৩৩ রানের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে তাঁর আত্মবিশ্বাস ফেরাবে।
