ফেলো কড়ি, মাখো তেল। এই পন্থাতেই একের পর এক ক্রিকেটারকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে সিএবি! গত কয়েকদিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল এই বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে। এবার সিএবির কমিটি মেম্বারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর প্রমাণ-সহ অভিযোগ জমা পড়ল ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ'র কাছে। অভিযোগ, বিপুল অর্থের বিনিময়ে ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, সিএবির নাম না করে এই একই অভিযোগ তুলেছিলেন সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়াও।
সোমবার ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন সায়ন্তন সিনহা নামে কলকাতা হাই কোর্টের এক আইনজীবী। জানিয়েছেন, গতবছর ১৪ আগস্ট এই একই মর্মে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি-সহ একাধিক ব্যক্তিকে। সায়ন্তন অভিযোগ এনেছেন সিএবি সদস্য অম্বরীশ মিত্রর বিরুদ্ধে। সংস্থার ক্রিকেটীয় কার্যকলাপের সঙ্গে অম্বরীশ যুক্ত। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে একের পর এক উঠতি ক্রিকেটারের থেকে টাকা আদায় করেছেন, এমনটাই অভিযোগ।
টাকা আদায়ের প্রমাণ হিসাবে একাধিক স্ক্রিনশটও তুলে ধরেছেন সায়ন্তন। সেখানে অম্বরীশের সঙ্গে চ্যাটের স্ক্রিনশট রয়েছে। সেখানে সিএবি সদস্য সরাসরি আশ্বাস দিচ্ছেন, টাকা মিটিয়ে দিলেই ক্রিকেটারদের দল পাওয়া নিশ্চিত। মূলত জুনিয়র পর্যায়ের টুর্নামেন্টগুলিতে ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেওয়া হত অর্থের বিনিময়ে। কয়েক দফায় অনলাইনে এই টাকা পাঠানো হয়েছে অম্বরীশের অ্যাকাউন্টে, সেই প্রমাণও মিলেছে ওই স্ক্রিনশটগুলিতে। অন্তত কয়েক লক্ষ টাকার লেনদেনের প্রমাণ স্রেফ স্ক্রিনশটগুলিতেই রয়েছে।
যাবতীয় প্রমাণ তুলে ধরে সায়ন্তনের অভিযোগ, এমন বিস্ফোরক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অম্বরীশ বহাল তবিয়তে সিএবির যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় চিঠি দিয়েও লাভ হয়নি। বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে দুর্নীতি মুছে ফেলার ডাক দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী, সেই বিষয়টি উল্লেখ করেই চিঠি দিয়েছেন সায়ন্তন। তাঁর কথায়, অর্থের বিনিময়ে দলের জায়গা 'বিক্রি' হচ্ছিল। তার ফলে প্রকৃত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। বাংলার ক্রিকেটে এই দুর্নীতি বন্ধ হওয়ার আশায় চিঠি দিয়েছেন ওই আইনজীবী। এবার কী পদক্ষেপ করবে সরকার?
