হাতছাড়া হয়েছে বিশ্বকাপ। এবার জোড়া অপরাধে শাস্তি পেতে চলেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবলাররা! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড আইল্যান্ড নিয়ে বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন লিওনেল মেসিরা। ফাইনালে হারের পর স্পেনের ফুটবলার মারধরও করে আর্জেন্টিনা ফুটবলাররা। দুই অপরাধেই এবার সাজা দিতে চলেছে ফিফা। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই এই দুই অপরাধ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন বিশ্বজয়ী হওয়ার পর লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে নিয়ে যত না আলোচনা চলছে, তার চেয়ে অনেক বেশি চর্চা চলছে পরাভূত টিম আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে। বিগত চার বছর ধরে বিশ্বজয়ী ছিল যারা। কিন্তু খেলা শেষে লিয়ান্দ্রো পারদেসরা যে নিকৃষ্ট বর্বরতার নিদর্শন পেশ করলেন, তার পর গোটা বিশ্বে চর্চা চলছে, কোনটা বেশি কদর্য? মাঠে স্পেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার নিষ্প্রভ ফুটবল? নাকি খেলা শেষে পারদেসদের কুৎসিত আচরণ? ফাইনাল শেষের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছিল। প্রথমে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডির সঙ্গে বেঁধে যায় স্পেন অধিনায়ক রড্রির। উত্তেজনার বশে এরিক গার্সিয়ায় ঘাড় ধরে ধাক্কা মেরে দেন লিয়ান্দ্রো পারদেস। যার পর গাভি কিছু বলতে গেলে, তাঁকে ঘুসি মেরে বসেন আর্জেন্টিনা ফুটবলার।
গোটা ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে আর্জেনন্টাইনদের ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ নিয়ে। এবার সেই অপরাধে সাজাও পেতে হবে নীল-সাদা ব্রিগেডকে। ইতিমধ্যেই পারদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে চার্জ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসিরা। সেই নিয়ে ফিফার কাছে তদন্তের অনুরোধ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এবার ফিফা খেলার মাঠে রাজনীতির অভিযোগ এনেছে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। দুই ক্ষেত্রেই ফিফা সবপক্ষের বক্তব্য শুনবে। তারপর শাস্তি কী হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।
সূত্র মারফত শোনা গিয়েছিল, ব্রিটিশ সরকার নিজেই আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বড় শাস্তি দিতে পারে। ইংল্যান্ডে প্রবেশের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে তাঁদের। ফলে প্রিমিয়ার লিগেও আর খেলতে পারবেন না আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। তবে ফিফার শাস্তির খাঁড়া এড়াতে পারবেন না মেসিরা, এমনটাই অনুমান। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। বৈষম্যমূলক মন্তব্য, জিনিস ছোড়ার মতো অভিযোগ রয়েছে ভক্তকুলের বিরুদ্ধে।
