ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন কৃষকনেতা রাকেশ টিকাইত। তারপরই পথে নেমে ক্ষোভ দেখালেন কৃষকরা! বুধবার মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা সরকারি প্রতনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে কৃষকদের দাবিদাওয়া মানা হয়নি বলেই সূত্রের খবর। তারপরেই পুলিশের সঙ্গে কৃষক বিক্ষোভকারীরা সংঘাতে জড়ান। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের এক কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যান তাঁরা।
জানা গিয়েছে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে একাধিক দাবি তুলেছিল মধ্যপ্রদেশের কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা। বুধবার প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মধ্যপ্রদেশের কৃষি উন্নয়ন মন্ত্রী আইদাল সিং কানসানা। তারপর সাংবাদিক বৈঠকও করেন। কিন্তু সেখান থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। পথে নেমে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। পুলিশের সতর্কবাণীও শোনেননি তাঁরা। যদিও পরিস্থিতি কিছুক্ষণের মধ্যেই শান্ত হয়ে যায়। কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন কৃষকনেতা রাকেশ টিকাইত। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ বলে দাবি করেছিল সিজেপি। তবে ছাত্রদের সেই সমাবেশকে রাজনৈতিক খাতে ব্যবহারের ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল বিজেপির। শাসকদলের সেই অভিযোগকে কার্যত মান্যতা দিয়ে মঙ্গলবার কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে সাক্ষাত করেন আশুতোষ ও সিজেপির অন্যান্য নেতারা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের বহু সদস্য।
বৈঠক শেষে আশুতোষ বলেন, “মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর জোট গড়ার চেষ্টা করছি আমরা। আশা করব আমাদের দেশের কৃষক এবং যুবসমাজ মোদি সরকারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে।” এখানেই শেষ নয়। কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকার কোনও পদক্ষেপ না করলে কৃষক সংগঠন ও যুব সম্প্রদায় যৌথভাবে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করবে। এহেন হুঁশিয়ারির পরদিনই মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের পথে নামা-সেটা কি কাকতালীয়? নাকি নেপথ্যে রয়েছে বৃহত্তর কোনও যোগসূত্র?
