সলিল আঙ্কোলাকে মনে পড়ে? নব্বইয়ের দশকের সুঠাম-দীর্ঘদেহী এই পেসারকে অনেকেরই মনে আছে। প্রাক্তন এই ভারতীয় ক্রিকেটার জীবনের এক কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। মানসিক অবসাদে ভুগছেন তিনি। পুণের কাছে একটি মেন্টাল হেলথ কেয়ারে ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁকে চিকিৎসার জন্য রিহ্যাবের সাহায্য নিতে হল। এর আগে মদ্যপানের সমস্যার জন্য চিকিৎসাধীন ছিলেন সলিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই গভীর মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রাক্তন এই ক্রিকেটার। শেষ পর্যন্ত তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সলিলের স্ত্রী রিয়া আঙ্কোলা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে মায়ের মৃত্যু সলিলকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই গভীর মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রাক্তন এই ক্রিকেটার। শেষ পর্যন্ত তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিয়া বলেন, "সলিল অনেক দিন ধরেই অবসাদের মধ্যে ছিল। তাই কয়েক সপ্তাহ আগে ও নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুণের কাছে একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে। মাকে হারানোর পর থেকেই ও খুব ভেঙে পড়েছিল। সেই শোক কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছিল না।" তিনি আরও বলেন, "ও বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিল। এটা ও নিজেও বুঝতে পারছিল। তখনই শান্ত পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।"
এই কঠিন সময়েও পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন সলিল। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে সুস্থতার পথেই এগোচ্ছেন তিনি।
এই কঠিন সময়েও পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন সলিল। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে সুস্থতার পথেই এগোচ্ছেন তিনি। রিয়ার কথায়, "আমরা পরিবার হিসাবে খুশি যে, ও ভেঙে না পড়ে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন নিয়মিত শরীরচর্চা করছে এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। ক্রিকেটই ওর প্রথম ভালোবাসা ছিল, আছে এবং থাকবে। কারণ ও সব সময়ই লড়াকু মানসিকতার মানুষ।" সলিল-পত্নীর সংযোজন, "ক্রিকেট মহলও ওকে সবরকমভাবে সমর্থন করেছে। নিজের জন্য একটু সময় নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সবাই সম্মান জানিয়েছে।"
শচীন তেণ্ডুলকরের সঙ্গে সলিল আঙ্কোলা। ফাইল ছবি।
১৯৮৯ সালে করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল সলিল আঙ্কোলার। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল সচীন তেণ্ডুলকর এবং ওয়াকার ইউনিসেরও। প্রথম টেস্টেই দু'টি উইকেট নিয়েছিলেন সলিল। ভারতের হয়ে ২০টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে মুম্বইয়ের হয়ে ৫৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৮১ উইকেট। কিন্তু চিবুকে টিউমারের সমস্যার কারণে মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে বাধ্য হন। পরে অভিনয় জগতে পা রাখেন তিনি। একাধিক টিভি ধারাবাহিক ও সিনেমায় অভিনয় করেন। গত কয়েক বছরে ধারাভাষ্যকার হিসাবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের জাতীয় নির্বাচকের দায়িত্বও সামলেছেন সলিল।
