পাক ক্রিকেটে চরম গন্ডগোল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকেই বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান। সলমন আলি আঘার নেতৃত্ব যেমন প্রশ্নের মুখে, তেমনই কোচ মাইক হেসনের পরিকল্পনা বা দল নির্বাচন নিয়েও কথা উঠছে। যার প্রভাবে ভাঙন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (Pakistan Cricket Board)। বাবর আজমদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতেই পিসিবি'র নির্বাচন কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন আলিম দার।
পাক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী হেসনের কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুলে বিরক্ত-হতাশ হয়ে পদত্যাগ করেছেন আলিম দার। দীর্ঘদিন আইসিসি'র এলিট আম্পায়ারের তালিকায় থাকার পর ২০২৪-র অক্টোবরে পিসিবি'র নির্বাচক বোর্ডে যুক্ত হন আলিম। কিন্তু পাক বোর্ডের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি যথেষ্ট বিরক্ত। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে বাবর আজম বা শাদাব খানের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের নেওয়া নিয়ে মতবিরোধ চরমে ওঠে। তাঁদেরকে দলেই চাননি আলিম। তারপরও তাঁরা বিশ্বকাপে খেলেছেন এবং চরম ব্যর্থ হয়েছেন।
এছাড়া চূড়ান্ত দল নির্বাচনে কোচ হেসন যেভাবে কর্তৃত্ব ফলিয়েছেন, তাও পছন্দ হয়নি ৫৭ বছর বয়সি আম্পায়ারের। অন্যদিকে এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরও আরেক নির্বাচক আকিব জাভেদ গোটা বিষয়টায় হস্তক্ষেপ করেননি। ফলে হেসন কার্যত একচ্ছত্র কর্তৃত্ব করেছেন। আলিম দার সরে যাওয়ায় এখন পাক বোর্ডে আকিব জাভেদ, আসাদ শফিকের সঙ্গে ডাটা অ্যানালিস্ট উসমান হাশমি রয়েছেন। অন্যদিকে পাক দলের ব্যর্থতায় পিসিবি বিস্তর রদবদলের কথা ভাবছে।
বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠলেও শেষমেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি পাক ব্রিগেড। শোনা গিয়েছে, এই ব্যর্থতার জন্য মোটা টাকা গচ্চা দিতে হবে শাহিন শাহ আফ্রিদিদের। প্রত্যেক ক্রিকেটারকে পাক মুদ্রায় ৫ মিলিয়ন জরিমানা দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৬.২৮ লক্ষ টাকা। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভারতের কাছে হারের পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল পিসিবি। তবু বোর্ড কর্তারা অপেক্ষা করছিলেন যদি সলমনরা সেমিফাইনালে যেতে পারে। কিন্তু সেটা হয়নি। ফলে জরিমানা দিতেই হবে পাক দলকে।
