shono
Advertisement
Amanjot Kaur

হার্ট অ্যাটাক ঠাকুমার, মোড় ঘোরানো ক্যাচে বিশ্বকাপ জিতে দুঃসংবাদ পেলেন অমনজ্যোত

বিশ্বকাপ চলাকালীন অমনকে জানানো হয়নি এই দুঃসংবাদ।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 01:03 PM Nov 03, 2025Updated: 01:07 PM Nov 03, 2025

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লরা উলভার্টের ক্যাচ যখন তালুবন্দি করলেন অমনজ্যোত কৌর, তখনও জানতেন না ম্যাচের পর এভাবে আকাশ ভেঙে পড়বে। বহু সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে তাঁর এই উঠে আসা। সেই কারণেই মেয়ের হাতে বিশ্বজয়ের ট্রফি দেখে উচ্ছ্বসিত তাঁর পরিবার। এবার এক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন অমনজ্যোতের বাবা ভূপিন্দর সিং। জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল অমনজ্যোতের 'ছায়াসঙ্গী' ঠাকুমার। কিন্তু তাঁর মেয়েকে সে খবর জানানো হয়নি, যাতে বিশ্বকাপ থেকে ফোকাস না সরে যায়।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমকে ভূপিন্দর সিং বলেন, "মোহালিতে আমাদের ফেজ ফাইভের বাসভবনের বাইরে, পাশের এক পার্কে ক্রিকেট খেলত অমনজ্যোত। ছোট থেকেই ওর ছায়াসঙ্গী আমার মা ভগবন্তী। ওর শক্তির স্তম্ভ ছিল ঠাকুমা। আমি যখন বালোঙ্গিতে দোকানে কাঠের কাজে ব্যস্ত থাকতাম, তখন অমনজোতের দেখাশোনা করত আমার মা। গত মাসে মা হৃদরোগে আক্রান্ত হল। আমরা অমনজোতকে কিছুই জানাইনি। জানালে ওর মনঃসংযোগ নষ্ট হতে পারত। মায়ের চিকিৎসার জন্য গত কয়েকদিন আমাদের হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। এই টালমাটাল সময়ে বিশ্বকাপ জয় অবশ্যই আমাদের ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিয়েছে।"

ফাইনালে ততক্ষণে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক লরা উলভার্ট। ম্যাচ কি ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর ছিল অমনজ্যোতের হাতে। দীপ্তি শর্মার বলকে আকাশে তুললেন লরা। সেটা সোজা অমনজ্যোতের হাতে। না, তিনি প্রথম সুযোগে ধরতে পারলেন না। হাত থেকে বল মিস হল, দ্বিতীয়বারও তাই। তৃতীয়বার এক হাতে বল ধরলেন। আসলে যেন ১৪০ কোটি ভারতবাসীর হৃৎপিণ্ডটা লুফে নিলেন।

বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অমনজ্যোত। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আট নম্বরে নেমে ৫৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। মনে রাখতে হবে, সেই ম্যাচে ১২৪ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতের। সেখান থেকে তাঁর এই ইনিংস। বল হাতেও পেয়েছেন ছ'টি উইকেট। এর মধ্যে শেষ চারের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নিয়েছিলেন ফোব লিচফিল্ডের উইকেটও ছিল। ফাইনালে অসাধারণ ক্যাচ তো বটেই, তাজমিন ব্রিটসকে রান আউটও করেন তিনি।

এহেন অমনজোত প্রথমে স্কেটার এবং হকি খেলোয়াড় হিসেবে শুরু করেছিলেন। তবে মোহালির পাড়ায় ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করতেন। ২০১৬ সালে ভূপিন্দরকে এক প্রতিবেশী মেয়েকে ক্রিকেট শেখানোর পরামর্শ দেন। এরপর চণ্ডীগড়ের এক অ্যাকাডেমিতে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ছোটবেলার কোচ নাগের গুপ্তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভূপিন্দরের সংযোজন, "নাগেশ স্যরই আমাকে বলেছিল মেয়েকে সেক্টর ৩২-এর সরকারি স্কুল মাঠে পাঠাতে। তখন আমি অতিরিক্ত কাজ করেছি, যাতে অমনজোতের প্রশিক্ষণের খরচ মেটাতে পারি। মোহালি থেকে চণ্ডীগড়ের অ্যাকাডেমিতে নিয়ে যেতাম। পরে ওকে স্কুটি কিনে দিই। অমন বলত, "পাপা চিন্তা চি করনি। ম্যায় ভাদ্দি হো গাই হান (বাবা চিন্তা করো না, আমি এখন বড় হয়ে গেছি)।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • মেয়ের হাতে বিশ্বজয়ের ট্রফি দেখে উচ্ছ্বসিত তাঁর পরিবার।
  • এবার এক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন অমনজ্যোতের বাবা ভূপিন্দর সিং।
  • জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল অমনজ্যোতের 'ছায়াসঙ্গী' ঠাকুমার।
Advertisement