আউট হয়ে চরম ক্ষুব্ধ। প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে রীতিমতো সেই রাগ উগরে দিলেন। আর তার জেরে আইসিসি'র শাস্তির মুখে পড়লেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটার প্রভাত জয়সূর্য। এই টেস্টে এর আগে শাস্তির মুখে পড়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল। বাড়তি বলতে, ভারতীয় ওপেনারের জরিমানা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দু'জনের অপরাধের মাত্রা আলাদা। প্রভাতের ক্ষেত্রে আইসিসি যদি কড়া অবস্থান নেয়, তাহলে যশস্বীকে কেন 'লঘু দণ্ড' দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হল?
প্রভাতের ঘটনা কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষদিকে। ভারতের ৫০৩ রানের জবাবে রীতিমতো ধুঁকছে শ্রীলঙ্কা। তার মধ্যে মানব সুথারের বলে এলবিডব্লু হন প্রভাত। আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডিআরএস নেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটার। কিন্তু সেখানেও হতাশ হতে হয়। 'আম্পায়ারস কলে' আউট হন তিনি। বিষয়টা ভালোভাবে নেননি প্রভাত। প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে বাউন্ডারি লাইনে ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন। পরে গ্লাভস ছুড়ে মারেন। যা আইসিসি'র নিয়মের বিরোধী। ২.২ ধারা অনুযায়ী ক্রিকেট সামগ্রী এভাবে ছুড়ে মারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই তাঁর নামে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়েছে। গত ২৪ মাসে এটাই তাঁর প্রথম অপরাধ। তাই জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়নি। প্রভাত শাস্তি মেনে নিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যশস্বীর ক্ষেত্রে আইসিসি'র সিদ্ধান্ত নিয়ে। শ্রীলঙ্কার পেসার অশিথা ফার্নান্ডোর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে ফার্নান্ডোকে গুঁতোও মারতে দেখা যায় ভারতীয় ওপেনারকে। আইসিসি আচরণবিধির ২.১২ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। ফলে ম্যাচ ফি-র ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে তাঁর। একই শাস্তি পেয়েছেন শ্রীলঙ্কান পেসার ফার্নান্ডোও। দু’জনকেই আইসিসি-র লেভেল ১ অপরাধের শাস্তি পেতে হয়েছে। জরিমানা-সহ দুই ক্রিকেটারকেই ১ ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। আইসিসি'র বক্তব্য ছিল, ফার্নান্ডোই প্রথমে যশস্বীর দিকে এগিয়ে যান।
সম্প্রতি যে নতুন ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে যশস্বীর আগ্রাসনই বেশি মনে হচ্ছে। তিনি প্রথম হেলমেট দিয়ে গুঁতো মারেন। মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার জন্য বিরাট শাস্তি পেতে পারতেন যশস্বী। এমনকী সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করতে পারত জয় শাহের আইসিসি। তাহলে কি তাঁকে 'ছেড়ে' দিল? কেন 'লঘু দণ্ড' দেওয়া হল? উঠছে প্রশ্ন।
