ভারত (প্রথম ইনিংস): ৪৬২/১০ (পাড়িক্কল ১৬৭, রাহুল ৮২, প্রভাত জয়সূর্য ১০৯/৪)
শ্রীলঙ্কা (প্রথম ইনিংস): ২৮৪/১০ (সোনাল ১০০, মানব ৭৬/৪, জাদেজা ৫৭/৩)
ভারত (দ্বিতীয় ইনিংস): ১৯৩/১০ (পন্থ ৬৬, দেবদত্ত ৪৪, ফার্নান্দো ৩১/৪)
শ্রীলঙ্কা (দ্বিতীয় ইনিংস): ২০৬/১০ (সোনাল ৮৪, মানব ৫৫/৬, প্রসিদ্ধ ১৬/২)
প্রথম টেস্টে ভারত ১৬৫ রানে জয়ী
লাঞ্চের পরই ভেঙে পড়ল শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) যাবতীয় প্রতিরোধ। গলে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয় পেল ভারত (India)। নেপথ্যে মানব সুথারের ঘূর্ণি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের পর দ্বীপরাষ্ট্রেও অনবদ্য বোলিং তরুণ অলরাউন্ডারের। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট তুললেন মানব। লাঞ্চের আগে পর্যন্ত একা লড়ে গিয়েছিলেন সোনাল দিনুশা। কিন্তু সেই মানবের হাতেই বন্দি হলেন। ৩৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অলআউট হয়ে যায় ২০৬ রানে। দু'টেস্টের সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। এই টেস্ট জয়ের সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দৌড়ে এখনও ভেসে রইলেন শুভমান গিলরা।
প্রথম ইনিংসে ভারতের ৪৬২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৮৪ রানে। তৃতীয় দিনের শেষে ১৭৮ রানের লিড থাকলেও বৃষ্টির জন্য আর মাঠে নামতে পারেনি ভারত। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে শুভমান গিলরা বড় রান করতে পারেননি। ১৯৩ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে একা পন্থেরই রান ৬৬। দেবদত্ত পাড়িক্কল ৪৪ ও কেএল রাহুল ৩৫ রান করেন। চতুর্থ দিনের শেষে ৩৭২ রানের বিরাট লক্ষ্য মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। লড়াইটা নিঃসন্দেহে অসম। ঘূর্ণি পিচে জাদেজা, সুথার বা কুলদীপ যাদবের স্পিনের হাত থেকে বাঁচা কার্যত অসম্ভব ছিল। চতুর্থ দিনের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের রান ছিল ৮৪।
স্বাভাবিকভাবেই ভারতের ক্রিকেট-ভক্তরা আশা করেছিলেন, সকাল-সকাল হয়তো টেস্ট-জয় হয়ে যাবে। একটাই আশঙ্কা ছিল বৃষ্টি। গলে এদিন আবহাওয়া বাধা সৃষ্টি করেনি। তাতেও লাঞ্চ পেরিয়ে গেল ভারতের জিততে জিততে। কারণ একা লড়ে গিয়েছিলেন সোনাল দিনুশা। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৮৪ রান করে যান। তিনি যতক্ষণ ব্যাট করছিলেন, ততক্ষণ আশা বেঁচে ছিল শ্রীলঙ্কার। এর আগে অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি'সিলভা ও সোনাল মিলে একটা আলৌকিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু লাঞ্চের আগে জাদেজার বলে আউট হন ধনঞ্জয়। লাঞ্চের সময় ৬ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১৭৫।
ধনঞ্জয়ের উইকেটের পর জাদেজাদের উচ্ছ্বাস।
লাঞ্চের পর শুরু হয় মানবের ম্যাজিক। বাঁহাতে একেবারে 'ট্র্যাডিশনাল' স্পিনার। ভালো রানআপ। কোমরের মোচড়কে অসাধারণ ব্যবহার করেন। হাওয়াতেই বল ভাসে। তাই একটু বেশি স্পিন পান। ব্যাটার যেখানে ভাবেন, তার থেকে একটু আগে বল পড়ে। ফলে বাড়তি ফ্লাইটে স্লিপে ক্যাচ ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেভাবেই সোনালকে বন্দি করলেন। তারপর আর শ্রীলঙ্কার বাঁচার উপায় ছিল না। অলআউট হয়ে যায় ২০৬ রানে। পরের তিনটি উইকেটই তাঁর নামে। এই ইনিংসে তুললেন ৬ উইকেট। আগের ইনিংসেও ছিল ৪ উইকেট। একেবারে ১০-এ ১০ পারফরম্যান্স। ২টো উইকেট প্রসিদ্ধর। একটি করে মহম্মদ সিরাজ ও রবীন্দ্র জাদেজার। তবে চিন্তা বলতে রয়ে গেল যশস্বী জয়সওয়াল ও অধিনায়ক শুভমান গিলের ফর্ম। এছাড়া মানবের উত্থানে কুলদীপের জায়গাও সংশয়ের মুখে।
