শ্রীলঙ্কায় দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও ভারতের দাপট অব্যাহত। প্রথম দিনের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে টিম ইন্ডিয়ার রান ছিল ৩০০। দ্বিতীয় দিনের একটা দীর্ঘ সময় বৃষ্টির জন্য নষ্ট হয়েছে। তাতেও ধ্রুব জুরেল, ঋষভ পন্থদের আটকানো যায়নি। জুরেল সেঞ্চুরি করে 'জয় জওয়ান, জয় কিষান' বার্তা দিলেন। নজির গড়লেন পন্থ। ৫০৩ রান তুলে ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেন শুভমান গিল। ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার রান ২ উইকেট হারিয়ে ৮।
প্রথম দিনে সেঞ্চুরি করেছিলেন দেবদত্ত পাড়িক্কল (১১৭)। হাফসেঞ্চুরি করেন শুভমান গিলও। চোট পেয়ে উঠে গেলেও টিম ইন্ডিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, পন্থ নামতে পারবেন। হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে দ্বিতীয় দিনে ফিরেই তাণ্ডব শুরু করেন। শর্ট বলের পালটা পুল মারেন। তার মধ্যে লাহিরু কুমারার একটি বল ফাইন লেগের দিকে সজোরে পুল করেন। তা কলম্বোর মাঠের ছাদ পেরিয়ে গিয়ে পড়ল স্টেডিয়ামের বাইরে। বল হারিয়েও যায়। শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ৬৩ রানে আউট হন।
পন্থ এদিন তিনটি নজির গড়েন। টেস্টে ছক্কা হাঁকানোর নজিরে ছাপিয়ে যান কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে। ৫২ টেস্টে মেরেছেন ১০২টি ছয়। গিলক্রিস্টের ছয়ের সংখ্যা ১০০। এছাড়া ভারত অধিনায়ক শুভমান গিলকেও টপকে গিয়েছেন পন্থ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান এখন তারকা উইকেটকিপারের (২৯৪৮)। সেখানে গিলের রান ২৯১৭। এখানেই শেষ নয়। বিদেশের মাটিতে রানের নিরিখে পন্থ ছাপিয়ে গিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও। বিদেশে ৩৬ টেস্টে পন্থের রান ২৫৩৪। সেখানে ৪৮ টেস্টে ধোনি করেছিলেন ২৪৯৬।
দ্বিতীয় দিনের শেষে সেঞ্চুরি পেলেন ধ্রুব জুরেল। ভারতীয় টেস্ট দলের ৬ নম্বর জায়গাটা সম্ভবত পাকা করে নিলেন ২৫ বছর বয়সি উইকেটকিপার। মাঝে বৃষ্টির জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গল নিয়ে সেঞ্চুরি করেন। তারপর জার্সি তুলে হাতের পেশি দেখান। যেখানে লেখা ছিল, 'জয় জওয়ান, জয় কিষান।' আসলে জুরেলের বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে লড়াই করেছেন। ২০০৮ সালে ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নেন। কেরিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর এভাবেই সেলিব্রেট করলেন জুরেল। পরে উইকেটকিপারের দায়িত্বও সামলান। দ্বিতীয় দিনের শেষে ২ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার রান ৮। উইকেট তুলেছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও মানব সুথার। পিছিয়ে আছে ৪৯৫ রানে।
