অবশেষে থামল সোনাল দিনুশার একার লড়াই। সেঞ্চুরি করলেন ঠিকই, তবে শ্রীলঙ্কার ফলো-অন আটকাতে পারলেন না। ১৬২ বলে ১০৩ রান করে সারাংশ জৈনের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হলেন। ভারতের ৫০৩ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামল ২৯০ রানে। চতুর্থ দিনের শুরুতে সারাংশের ঘূর্ণিতে ফলো-অন থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে থামল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নামবে তারা। হাতে প্রায় দু'দিন। ফলে ভারতের কলম্বো টেস্ট (IND vs SL) জয়ও সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।
চতুর্থ দিনেও ম্যাচ শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এই টেস্টে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের থেকে ভারতকে বেশি ভুগিয়েছে বৃষ্টি। যখন-তখন বৃষ্টি। তৃতীয় দিনের শেষে তো আর বলই গড়ায়নি। তখনও শ্রীলঙ্কার ফলো-অন বাঁচাতে দরকার ছিল ৩৮ রান। টিকে ছিলেন সোনাল। তিনিই ছিলেন শ্রীলঙ্কায় ভারতের দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় কাঁটা। চতুর্থ দিন সকালে সোনাল একাই লড়াই করে যান। টানা দুই টেস্টে সেঞ্চুরিও পেলেন। কিন্তু ফলো-অন বাঁচাতে পারলেন না। অভিষেক টেস্টের প্রথম তিন দিন উইকেট পাননি সারাংশ। তবে চতুর্থ দিন সকালে কাজের কাজটা করে দিলেন। প্রথমে লাহিরু কামারাকে ফেরান। পরে ফাঁসালেন সোনালকে। এবার বৃষ্টি যদি বাধা না হয়, তাহলে শুভমানদের কাছে সুযোগ চতুর্থ দিনেই ইনিংসে টেস্ট জিতে নেওয়া।
প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রান তুলে ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেন শুভমান গিল। প্রথমে দেবদত্ত পাড়িক্কল সেঞ্চুরি করেন। পরে ধ্রুব জুরেল সেঞ্চুরি করে ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ বার্তা দেন। নজির গড়েন ঋষভ পন্থও। দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার রান ২ উইকেট হারিয়ে ছিল ৮। তৃতীয় দিনেও ভারতের দাপট অব্যাহত ছিল। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৩ উইকেট পেয়েছেন। অন্যদিকে মানব সুথার এই টেস্টেও ধারাবাহিক। তাঁর ঝুলিতেও তিন উইকেট। কিন্তু বৃষ্টির জন্য বারবার ম্যাচ বিঘ্নিত হয়। তৃতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫।
ফলো-অন না করাতে পারলে বিস্তর সমস্যা হত ভারতের জন্য। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হলে কত রান দরকার? কখন ডিক্লেয়ার করতে হত? বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ায় কি শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যেত? এই টেস্ট না জিতলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের সমস্ত আশাভরসা কলম্বোতেই শেষ হয়ে যেত। সারাংশের স্পিনে চতুর্থ দিন সকালে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে অন্তত টেস্টজয়ের খুব কাছে ভারত।
