ডিজিটাল প্রতারণা ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আইনি পথে হেঁটেছিলেন গম্ভীর (Gautam Gambhir)। সোশাল মিডিয়ায় নিজের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরাসরি দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ। এবার আদালতের কাছে রক্ষাকবচ পেয়ে গেলেন তিনি। গম্ভীরকে নিয়ে সোশাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে থাকা সমস্ত ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
আদালতের তরফে মেটা, গুগল এবং আমাজনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গম্ভীরকে নিয়ে আপত্তিকর ইউআরএলগুলি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে। উল্লেখ্য, গম্ভীরের অভিযোগ ছিল, পরিকল্পিতভাবে তাঁর নাম-পরিচয়ের অপব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ১৬টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট-সহ কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন গম্ভীর। পাশাপাশি মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন ভারতীয় কোচ। অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, গত বছরের শেষের দিক থেকে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স কিংবা ইউটিউবে তাঁর নাম ব্যবহার করে ভুয়ো কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছিল।
এমনকী এআই, ভয়েস ক্লোনিং, ফেস সুয়াপিং প্রযুক্তির সাহায্যে ভিডিও বানানো হয়েছিল। একটি ক্লিপে তাঁকে দেখা যায় সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে মন্তব্য করতে। এই ভিডিওটি ভিউ হয়ে ১৭ লক্ষ বার। এখানেই শেষ নয়। গম্ভীরের আইনজীবীদের মতে, একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন গম্ভীর। যা দেখা হয়েছে ২৯ লক্ষ বার। সস্তার লাইক-কমেন্ট পাওয়ার আশায় এগুলো করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভারতীয় কোচের।
গম্ভীর বলেছিলেন, “আমার নাম, পরিচয়, মুখ এবং কণ্ঠস্বরকে ব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব করে অর্থ উপার্জন করা হচ্ছে। এটা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, বরং আইন ও মর্যাদার প্রশ্ন।” পাশাপাশি, ভুয়ো ভিডিও এবং পোস্টগুলি অবিলম্বে সরানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির আবেদন করেছেন। এবার দিল্লি হাই কোর্ট ভারতীয় কোচকে সুরক্ষা প্রদান করল।
