ক্রিকেটাররা কখনও কখনও নির্দিষ্ট কোনও স্টেডিয়ামকে পছন্দের অপেরা সেন্টারে পরিণত করে দেন। যেখানে তাঁরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্স বার করে আনতে থাকেন পরপর। সিতুলিজ স্পোর্টস ক্লাব যেমন ছিল মাহেলা জয়বর্ধনে এবং মুথাইয়া মুরলীধরনের বিপক্ষ-নিধনের প্রিয় দুর্গ। নিউল্যান্ডসের মাঠে পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার জাক কালিসের যা রেকর্ড আছে, তা অকল্পনীয়। স্টুয়ার্ট ব্রড যেমন আবার ছিলেন লর্ডসে। এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির মতো ঝাঁপিয়ে পড়তেন প্রতিপক্ষের উপর। শ্রীলঙ্কার দুই স্পিনার প্রভাত জয়সূর্য এবং রমেশ মেন্ডিসের কাছে গল স্টেডিয়াম ঠিক তেমনই। যা তাঁদের নিজেদের একান্ত চারণ-ভূমি। যেখানে তাঁরা শুধুমাত্র বিপক্ষ ব্যাটারদের শাসন করেন না, নতজানু করেন না, স্পিনের বিষে নীল করে দেন রীতিমতো।
গল স্টেডিয়ামের একটা রেকর্ড পাওয়া গেল। এ মাঠে লঙ্কা স্পিনের জয়সূর্য-মেন্ডিসের উইকেটসংখ্যা মাত্র ১৪৫। বাঁ হাতি স্পিনার জয়সূর্য গলে এগারোটা টেস্ট খেলে উইকেট নিয়েছেন ৮১-টা। মেন্ডিস বারোটা টেস্ট খেলে নিয়েছেন ৬৪-টা উইকেট। যাঁদের একটা নামকরণ করেছেন প্রাক্তন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটার পারফেজ মাহরুফ। কিংস অফ গল। গলের দুই রাজা। "প্রভাত জয়সূর্যই আমাদের প্রধান অস্ত্র। আমরা ওদের দু'জনের নাম দিয়েছি, কিংস অফ গল। প্রভাত আর মেন্ডিস মিলে যত উইকেট নিয়েছে গলে, ভাবা যায় না," বলে দিয়েছেন মাহরুফ। "প্রভাতের সবচেয়ে বড় গুণ কী জানেন? হাওয়া অনুযায়ী, বোলিং করতে পারে ও। আর গলের হাওয়ার দিক-গতি বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তার উপর নির্ভর করে থাকে, বল কতটা ড্রিফট করবে," সঙ্গে দ্রুত জুড়ে দেন প্রাক্তন লঙ্কা ক্রিকেটার।
তা, মাহরুফ যা বললেন, সেটা ভারতীয় ব্যাটারদের পক্ষে আশাব্যঞ্জক নয় মোটে। কারণ, সাম্প্রতিক অতীতে ভারতীয় ব্যাটারদের সবচেয়ে ভুগিয়েছে ভালো মানের স্পিন বোলিং। ভারতের ঘরের মাঠে ভারতীয় ব্যাটিংকে ছারখার করে দিয়ে গিয়েছিলেন দুই নিউজিল্যান্ড স্পিনার মিচেল স্যান্টনার এবং আজাজ প্যাটেল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভূগিয়ে গিয়েছেন সাইমন হারমার। ভারতেরই পিচে। শ্রীলঙ্কার দুই স্পিনার তাই অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে চলেছেন শুভমান গিলদের। জয়সূর্যের বাঁ হাতি স্পিন এবং মেন্ডিসের অফস্পিন একযোগে সামলাতে হবে গৌতম গম্ভীরের টিমকে।
"খুব অল্প সময়ের মধ্যে শ্রীলঙ্কার একনম্বর স্পিনার হয়ে গিয়েছে জয়সূর্য। প্রকৃত লেফট আর্ম অর্থোডক্স ও। যে কি না ব্যাটারদের শট খেলার কোনও জায়গাই দেয় না," সতর্কবার্তা জারি করেছেন প্রাক্তন শ্রীলঙ্কা স্পিনার উপুল চন্দনা। "পিচে যদি অসমান বাউন্স থাকে, তা হলে জয়সূর্যকে খেলা দুঃসাধ্য হয়ে যায় প্রায়।" চন্দনার বক্তব্য হল, জয়সূর্যকে খেলা আরও কঠিন হয়ে যায়, উল্টো দিক থেকে মেন্ডিসের অফস্পিন বোলিংয়ের জন্য। "উল্টো প্রান্ত থেকে জয়সূর্যকে প্রচুর সাপোর্ট দেয় মেন্ডিস। যার ফলে উইকেটের দু'দিক থেকেই ব্যাটার চাপে পড়তে শুরু করে। বাঁ হাতি ব্যাটারদের থেকে ক্রমাগত বলকে বাইরে নিয়ে যেতে থাকে মেন্ডিস। আর পিচ থেকে টার্ন পেলে তো ওকে আটকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়," বলে দিয়েছেন চন্দনা।
সময়-সময় মনে হয়, সত্যিই ইতিহাস কালের নিয়মে বারবার আসে ফিরে। একটা সময় ভারতীয় ব্যাটিংকে কম ভোগায়নি অজন্তা মেন্ডিসদের স্পিন। এবারও সামনে এক জয়সূর্য, এক মেন্ডিস এবং তরুণ অধিনায়কের নেতৃত্বাধীন এক ভারতীয় টিম। যারা বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শ্রীযুক্ত গৌতম গম্ভীর, আপনার পরীক্ষা এবার শুরু হচ্ছে। ইওর টাইম স্টার্টস নাও।
