শেষ তিন বছরে তিনটে আইসিসি ট্রফি। দু'টো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। একটা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের একাধিপত্যের সাক্ষী থেকেছে ক্রিকেটবিশ্ব। এরপর থেকে ভারতীয় দলকে নিয়ে চর্চা জারি রয়েছে। যদিও এত সবের মধ্যেও অভিষেক শর্মার ফর্ম মাঝেমাঝেই চিন্তায় ফেলেছে ভারতীয় দলকে। অনেকেই আবার অভিযোগ, গম্ভীরের 'প্রিয় ছাত্র' বলে নাগাড়ে সুযোগ পাচ্ছেন 'শর্মা জি কা বেটা'। এই আবহেই টিম ইন্ডিয়ার অন্দরমহলের কথা ফাঁস সঞ্জু স্যামসনের। তাঁর স্পষ্ট কথা, অভিষেককে ভারতীয় দলের সকলেই নাকি হিংসা করেন।
বিশ্বকাপের শুরু থেকে ব্যর্থতা। টানা রান না পাওয়া। বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটারকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় গণ সমালোচনা শুরু হয়ে যাওয়া। অভিষেক নিজেও বেশ চাপে ছিলেন। কিন্তু আহমেদাবাদ ফাইনালের পর সব কিছুর মুক্তি। নিজে রান করেছেন। টিম ফাইনালে জিতেছে। ম্যাচের আবেগে প্রায় কেঁদেও ফেলেন। কিন্তু সঞ্জু শোনালেন অন্য কথা। ঘটনাটা ঠিক কী?
আসলে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই 'মহাতারকা' হয়ে উঠেছেন অভিষেক। সাজঘর থেকে সমর্থক, সবার মধ্যেই তাঁর প্রবল জনপ্রিয়তা। যা অনেকেই ঈর্ষার নজরে দেখেন। "অভিষেককে নিয়ে হিংসা হয় সতীর্থদের। সবেতেই শুধু অভিষেক আর অভিষেক। মানুষ কি কেবল ওকেই দেখতে চায়? এটা সত্যি যে, ও ভারতীয় দলের সুপারস্টার। এবার তাড়াতাড়ি বিয়ে করে নাও ভাই।" শনিবার এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন অভিষেক এবং সঞ্জু। দুই ক্রিকেটারই আসর মাতিয়ে দেন।
বাঁহাতি ওপেনারকে প্রশংসায় ভরিয়ে সঞ্জু আরও বলেন, "আমাদের জুটিটা আগুন এবং বরফের নয়। ফায়ার অ্যান্ড ফায়ার। কখনও আমি আগুন। কখনও ও। এভাবেই আমাদের জুটি এগিয়ে যাচ্ছে।"
সঞ্জুর কথা শুনে হেসে ফেলেন অভিষেক। বাঁহাতি ওপেনারকে প্রশংসায় ভরিয়ে সঞ্জু আরও বলেন, "আমাদের জুটিটা আগুন এবং বরফের নয়। ফায়ার অ্যান্ড ফায়ার। কখনও আমি আগুন। কখনও ও। এভাবেই আমাদের জুটি এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ থেকে একই কাজ করে আসছি আমরা। মিডল অর্ডার হোক কিংবা ওপেন, কেরালা-পাঞ্জাবি বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছি আমরা।"
বন্ধুত্ব নিয়ে সঞ্জুর সংযোজন, "খেলার মাঝে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা সহজ করে নিই আমরা। সমস্ত কিছুই স্বাভাবিক লাগে। জটিলতায় যাই না আমরা। ও আমাকে জিজ্ঞেস করে, 'বল ব্যাটে কেমন আসছে?' যদি আমি বলি ঠিকঠাক, তখনই ও ছয় মেরে দেবে। অভিষেক খুবই সাহসী। ওর মানসিকতা খুবই পছন্দের। মাঠে এবং মাঠের বাইরে ওর সঙ্গে জুটি খুবই উপভোগ করি।"
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খুব একটা সহজ ছিল না অভিষেকের। সেই সময় তাঁর বাবা রাজকুমার শর্মা পুজোপাঠে ভরসা রেখেছিলেন। "এখন যদি বাবাকে জিজ্ঞেস করি, বলবে, চিন্তা করেনি। কিন্তু আমি বুঝতে পারি কতটা চিন্তায় ছিল বাবা। ওই সময়টায় পুজোপাঠ থেকে সমস্ত রকমের চেষ্টা করছিলেন। যা আগে কোনও দিন করেননি।" বলছেন অভিষেক। জানান, ভারতের হয়ে সমস্ত ফরম্যাটে খেলতে চান তিনি।
