সতীর্থকে 'স্পোর্টসম্যান স্পিরিট' শিখিয়েও লাভ হল না। শাস্তি পেলেন সলমন আলি আঘা (Salman Ali Agha)। পাক ক্রিকেটারকে 'আটকে' রানআউট করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। নিয়মমাফিক তিনি আউট। ক্ষুব্ধ সলমন গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন। এর ফলে আইসিসি'র শাস্তির মুখে পড়তে হল তাঁকে। তবে বাংলাদেশের স্পোর্টসম্যান স্পিরিট নিয়ে অগ্নিগর্ভ ক্রিকেটবিশ্ব। বাংলাদেশের অধিনায়ককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ।
এক্স হ্যান্ডলে কাইফ লেখেন, 'এটা মোটেও ঠিক হল না। উইকেট নেওয়ার তাগিদ থাকতে পারে। তবে এভাবে আউট করার কোনও কারণ থাকতে পারে না। তাও এটা আবার একজন অধিনায়কের হাত দিয়ে হচ্ছে। তরুণদের মনে রাখা দরকার, ধরো তোমাদের সামনে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতার সুযোগ রয়েছে। তখনও বাংলাদেশের অধিনায়ক যা করেছে, তেমন কোরো না। স্পোর্টসম্যান স্পিরিট না থাকলে সেটা খেলা নয়।'
আউট হওয়ার হতাশায় ক্ষুব্ধ সলমন গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে ফেলেন। এই ঘটনায় আঘার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন ম্যাচ রেফারি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিরস্কৃত হলেন পাক ক্রিকেটার। তাঁর বিরুদ্ধে ক্রিকেট সরঞ্জাম অপব্যবহারের অভিযোগে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছে আইসিসি। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ জানান, ঘটনাটি আইসিসি আচরণবিধির ২.২ ধারার আওতায় লেভেল-১ অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়েছে। এটা ক্রিকেট সরঞ্জাম বা পোশাকের অবমাননার শামিল।
কাইফ লেখেন, 'তরুণদের মনে রাখা দরকার, ধরো তোমাদের সামনে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতার সুযোগ রয়েছে। তখনও বাংলাদেশের অধিনায়ক যা করেছে, তেমন কোরো না। স্পোর্টসম্যান স্পিরিট না থাকলে সেটা খেলা নয়।'
এমন কোনও রেকর্ড না অতীতে না থাকায় আঘাকে কেবল তিরস্কারের সঙ্গে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, লিটন দাসের সঙ্গে সলমনের উত্তপ্ত কথা কাটাকাটিকে ম্যাচ রেফারি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ মনে করে সে বিষয়ে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি। আঘা এই শাস্তি মেনে নিয়েছেন। তাই আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজনও হয়নি।
উল্লেখ্য, সলমন বলেছিলেন, “আমি সব সময় আইন মেনে খেলতে চাই। কিন্তু যে কোনও পরিস্থিতিতে সবার উপরে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট। কেউ যদি মনে করে এভাবে আউট করে ঠিক করেছে, তাহলে সে ঠিক। কিন্তু আমার মতামত যদি জানতে চান, তাহলে আমি কখনও এরকম করতাম না। স্পোর্টসম্যান স্পিরিটটাকেই বেছে নিতাম।” কিন্তু এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটাররা থাকলে কী করতেন? সলমনের উত্তর, “আমরা অতীতে কখনও এরকম করিনি। ভবিষ্যতেও করব না।”
ঘটনার সূত্রপাত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাক ব্যাটিংয়ের ৩৯তম ওভারে। বল করছিলেন মিরাজ, ব্যাটে মহম্মদ রিজওয়ান। ওভারের চতুর্থ বলটি সোজা খেলেন রিজওয়ান। নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে থাকা সলমন বলটি পাশ দিয়ে যেতে দিচ্ছিলেন। সেই সময় মিরাজ পা দিয়ে বলটি ঠেকান। সলমন আবার বল থামার আগেই তা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সুযোগ না দিয়ে মিরাজ বল তুলে উইকেটে ছুড়ে দেন। তখন সলমন ক্রিজের বাইরে ছিলেন।
