দিল্লি ক্যাপিটালসে ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ছিলেন। প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের দায়িত্বেও ছিলেন। কোচ হিসাবে এবারই অভিষেক। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। কোচিংয়ের শুরুটা হল দুর্দান্তভাবে। শনিবার জো'বার্গ সুপার কিংসকে হারিয়েছে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস। প্লে অফে চলে গিয়েছে টিম। রবিবার সন্ধ্যেয় ফোনে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রশ্ন: কোচ হিসেবে প্রথম টুর্নামেন্টেই নকআউট পৌঁছনো।
সৌরভ: ধন্যবাদ। টুর্নামেন্ট এখনও শেষ হয়নি। আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।
প্রশ্ন: দিল্লিতে ক্যাপিটালসে আপনি ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ছিলেন। কোচ হিসেবে প্রথম টুর্নামেন্ট। কীরকম লাগছে?
সৌরভ: দুর্দান্ত অনুভূতি। এর আগে দিল্লি ক্যাপিটালসে ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ছিলাম। হেড কোচ রিকি (পন্টিং)। প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসেও ছিলাম। তবে দায়িত্ব আলাদা ছিল। এবারের দায়িত্বটা সম্পূর্ণ আলাদা। আমি খুব এক্সসাইটেড ছিলাম। ভারতীয় দলে যখন সুযোগ পেয়েছিলাম, তখন যেমন এক্সসাইটমেন্ট ছিল, কোচ হিসাবে কাজ শুরুর সময়ও অনুভূতি অনেকটা সেরকম।
প্রশ্ন: টুর্নামেন্টের শুরুটা আপনাদের ভালো হয়নি। তারপর এই কামব্যাক। কীভাবে সম্ভব হল?
সৌরভ: প্রথমে দুটো ম্যাচ আমরা হেরেছিলাম ঠিকই। কিন্তু এই দলের মধ্যে বিশ্বাস ছিল। বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যেকটা ম্যাচ ভালো যাবে, সেটা হতে পারে না। সব টিম সব ম্যাচ কখনও জিতবে না। আইপিএলেও তাই হয়। লম্বা ফরম্যাটে আপনি কখনও হারবেন, কখনও জিতবেন। আসল হল টিমের মানসিকতা।
প্রশ্ন: এই টিমের মধ্যে সেই বিশ্বাস ছিল বলছেন?
সৌরভ: অবশ্যই। বিশ্বাস না থাকলে টিম এত ভালো পারফর্ম করতে পারে না। প্রথম দুটো ম্যাচ হারের পরও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ একেবারে ফুরফুরে ছিল। কেউ এক মুহূর্তের জন্য প্যানিক করেনি। আমি শুধু ছেলেদের একটা কথাই বলছিলাম, সবার মধ্যে পোটেনশিয়াল রয়েছে। দুটো ম্যাচ হারের জন্য কিছু হবে না। জীবন শেষ হয়ে যাবে না। বরং নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস রাখতে হবে। ওরা ঠিক সেটাই করেছে।
প্রশ্ন: আপনি আলাদা করে কিছু বলছিলেন?
সৌরভ: আলাদা করে বলার কিছু নেই। নর্মাল যা বলার, সেটাই বলছিলাম। সবাই প্রফেশনাল। ওরা জানে কী করতে হবে। কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে। কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছিল, সেগুলো ওদের বলে দিয়েছিলাম। আর বলেছিলাম, তোমাদের সবার মধ্যে ভালো খেলার ক্ষমতা রয়েছে। তাই প্রথম দুটো ম্যাচে কী হয়েছে, সেটা ভুলে যাও। যে কোনও টিমই হারতে পারে। কিন্তু ভালো টিম সবসময় কামব্যাক করতে জানে। ওরা ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে।
প্রশ্ন: শেষ ম্যাচে জো'বার্গ সুপার কিংসের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করেছে টিম। সাত রানে প্রথম পাঁচ উইকেট চলে যায়। সেখান থেকে ম্যাচ জেতা।
সৌরভ: জাস্ট অবিশ্বাস্য। সুপার্ব। আগেই বললাম এই টিম জানে কামব্যাক করতে। না হলে ওই পরিস্থিতিতে থেকে কেউ ওভাবে ম্যাচ জিততে পারে। শুরুতেই পাঁচ উইকেট চলে যাওয়র পর প্যানিক করাটা খুব স্বাভাবিক। ওই পরিস্থিতিতেও আমাদের ডাগআউট অসম্ভব শান্ত ছিল। জানতাম একটা পার্টনারশিপ হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। ঠিক সেটাই হয়। ব্রেভিস আর রাদারফোর্ড মিলে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করল। আমাদের বোলাররাও দারুণ বোলিং করেছে।
প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন। এই টিমের এক্স ফ্যাক্টর কী?
সৌরভ: কেউ না কেউ পারফর্ম ঠিক করে দেয়। দল কারও একার উপর দল নির্ভরশীল নয়। রাসেলের এখনও পর্যন্ত খুব ভালো টুর্নামেন্ট যায়নি। তারপরও আমাদের জিততে অসুবিধে হচ্ছে না। সেটাই এই দলের এক্স ফ্যাক্টর। সবাই ম্যাচ উইনার। আসল কাজটা এখনও বাকি। ট্রফি জেতা।
