সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ১৭৮/৬ (উইলিয়ামসন-৪৭, পাঠান-৪৫*)
চেন্নাই সুপার কিংস: ১৮১/২ (ওয়াটসন-১১৭*, রায়না-৩২)
৮ উইকেটে জয়ী চেন্নাই সুপার কিংস
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ওপেন করতে নেমে প্রথম দশটা বলে দাঁত ফোটাতে পারেননি শেন ওয়াটসন। ফলে রান রেট চড়চড় করে বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে চেন্নাই সমর্থকদের টেনশনও। ক্রিকেটমহলে হিসেব-নিকেশ শুরু হয়ে যায়। গ্রুপ পর্ব এবং কোয়ালিফায়ার মিলিয়ে তিনবারের সাক্ষাতে প্রত্যেকবারই ম্যাচ পকেটে পুরেছে ধোনির সিএসকেই। তবে কি চূড়ান্ত লড়াইয়েই প্রতিশোধ নিতে চলেছেন কেন উইলিয়ামসনরা? যদিও এমন ভাবনা দীর্ঘস্থায়ী হল না। সৌজন্যে সেই শেন ওয়াটসন। দশ বলে শূন্য রান থেকে ৫১ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গোটা বিশ্বকে বিস্মিত করলেন। টি-টোয়েন্টি যদি তরুণদের ফরম্যাট হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকে, তাহলে ফাইনাল ম্যাচে বড় রান তাড়া করার চাপ নিয়ে ব্যাট করতে আসা প্রাক্তন অজি তারকার এই ইনিংসকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে? বোঝা যাচ্ছিল না। তবে দাক্ষিণাত্য ডার্বিতে যে চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে চেন্নাই-ই, তাঁর ইনিংস সেটা নিশ্চিত করে দিয়েছিল। গোটা টুর্নামেন্টে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে অপরাজিত থেকেই তৃতীয়বার আইপিএল ট্রফি ঘরে তুলল চেন্নাই এক্সপ্রেস।
[চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নাম বদলে তাঁর নামে রাখা হোক, চাইছেন রোনাল্ডো]
সাধারণ মানুষ জল পাচ্ছে না, আর সেখানে আইপিএলের জন্য বিপুল পরিমাণ জল কেন খরচ হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলে কাবেরী ইস্যুকে হাতিয়ার করে চেন্নাইয়ে ম্যাচই হতে দিলেন না বিক্ষোভকারীরা। রাতারাতি ঘরের মাঠ হয়ে গিয়েছিল পুণে। কিন্তু তাতেও দলের মনোবল ভাঙেনি। বলা ভাল ভাঙতে দেননি একটি মানুষ। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি। এভাবেও ফিরে আসা যায়! দুবছর পর হলুদ জার্সিটা ধোনি গায়ে না চাপালে হয়তো তা বিশ্বাসই করা যেত না। চেন্নাই নির্বাসনে থাকাকালীন পুণেতে অন্য অধিনায়কের অধীনে খেলতে হয়েছিল ধোনিকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে তাঁর অবসর নেওয়া উচিত। এমন দাবিও উঠেছিল। আর এসব শুনে হয়তো মনে মনে ফুঁসছিলেন মাহি। সময় আসতেই ছোবল মারলেন।
[টুইট করে কলকাতাবাসীকে এই সুখবরই দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়]
এদিন টস জয়টা কাজে দিয়েছিল ধোনির। তবে হায়দরাবাদকে খুব একটা কম রানে আটকানো সম্ভব হয়নি। ঋদ্ধিমান সাহা, মণীশ পাণ্ডের অনুপস্থিতিতে শক্ত হাতে ব্যাট ধরেছিলেন নেতা উইলিয়ামসন ও ইউসুফ পাঠান। ওয়াংখেড়ের উইকেটে ১৭৯ রানের টার্গেট একেবারেই মন্দ নয়। তার উপর দলে যেখানে রশিদ খান, ভুবনেশ্বরের মতো বোলার রয়েছে, তখন তো সমস্যার কারণই নেই। আর এই ভাবনাই হয়তো কাল হল হায়দরাবাদের। কেকেআরের বিরুদ্ধে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে জ্বলে ওঠা রশিদকে এদিন একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। আর সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসীই ডোবাল তাঁকে। তাঁর বলে বড় শট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই রশিদকে ভোঁতা করে দিলেন চেন্নাই ব্যাটসম্যানরা। আর তারপর তো ওয়াংখেড়ে মজল ওয়াটসনের ব্যাটিং শৈলীতে। দর্শনীয় একটি ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।
গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে ভারতের সেরা ক্যাপ্টেনের কাছে নথি স্বীকার করতেই হল বিদেশি নেতাকে। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও একবার সফল ক্যাপ্টেন কুল।আর এখানেই ক্লাব ক্রিকেটেও গোটা বিশ্বে জিতে গেল ভারত।
The post অনবদ্য ওয়াটসন, হায়দরাবাদকে হারিয়ে তৃতীয়বার আইপিএল ট্রফি ধোনির হাতে appeared first on Sangbad Pratidin.
