আকাশপথে উত্তরের লিচু উড়ে যাচ্ছে মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের মতো শহরের ফলপ্রেমীদের টেবিলে। সৌজন্যে বাগডোগরা বিমানবন্দরের 'কার্গো শিপমেন্ট'।
জানা গিয়েছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর সুবাদে চলতি মরশুমে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ৭৪১.৫২৫ মেট্রিক টন লিচু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছেছে। এটা গত মরশুমে ছিল মাত্র ২৭১.৪ মেট্রিক টন।
বিমানবন্দরের অধিকর্তা নাভেদ নাদিম জানান, লজিস্টিকস উন্নতির সুফল পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকার লিচু চাষিরা। আগে যোগাযোগের সমস্যার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হতেন তাঁরা। কিন্তু এখন কোল্ড-চেইন এবং এয়ার কার্গোর সুবিধার জন্য ফল চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। উত্তরের মালদহ, দুই দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে মূলত সুস্বাদু রসালো লিচু পাওয়া যায়। স্বাদে-গুণে উন্নত হলেও পরিবহণ সমস্যার জন্য এতদিন চাষিদের স্থানীয় বাজারের উপর নির্ভর করতে হয়েছে।
ট্রেনে পরিবহণের সুযোগ থাকলেও লিচুর মতো দ্রুত পচনশীল ফল বাইরে পাঠানোর ঝুঁকি কেউ নিতে পারেনি। কিন্তু বাগডোগরা বিমানবন্দরে 'কার্গো শিপমেন্ট' ব্যবস্থা চালু হতে সেই সমস্যা মিটেছে। উত্তরের লিচু চাষিরাও লক্ষ্মীলাভের সুযোগ পেয়ে খুশি। এখন বাগান থেকে লিচু ছিড়ে আনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আকাশপথে পৌঁছে যাচ্ছে দিল্লি অথবা মুম্বাইয়ের বাজারে। ফলের স্বাদ একই থাকছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র লিচু নয়। উত্তরের তরাই এলাকায় উৎপাদিত আনারস একই কার্গো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দ্রুত ভিনরাজ্যে পৌঁছে যাচ্ছে। কার্যত বাগডোগরা বিমানবন্দর উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান মাল পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত হয়ে ওঠায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে শুরু করেছেন।
