আইপিএলের লিগ পর্বের খেলা শেষ। চার দল প্লেঅফের যোগ্যতা অর্জন করেছে। কেকেআর বা পাঞ্জাব কিংসের মতো দল অল্পের জন্য জায়গা করতে পারেনি। আবার চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সামনে মহা নিলাম নেই, ফলে দলে হয়তো আমূল পরিবর্তন করতে পারবে না। কিন্তু অধিনায়ক বদলানো সম্ভব। আগামী মরশুমে আইপিএলে তিনটি দলের অধিনায়ক বদলানোর সম্ভাবনা প্রবল।
ঋষভ পন্থ (লখনউ সুপার জায়ান্টস): নির্দ্বিধায় বলা যায়, লখনউ কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার ২৭ কোটি টাকা জলে গিয়েছে। এবছর লখনউ সবার শেষে। গতবছরও প্লেঅফে জায়গা করতে পারেনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, তাঁর ব্যাট কথা বলছে না। এবার করেছেন ৩১২ রান। একটা মাত্র হাফসেঞ্চুরি। গত বছর ছিল ২৬৯ রান। একেবারে শেষে নিয়মরক্ষার ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন। খারাপ নেতৃত্বের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। যেমন রাজস্থান ম্যাচে বৈভবের বিরুদ্ধে পেসার মহসিন খানকে সেভাবে ব্যবহারই করলেন না। নেতৃত্বের চাপ ব্যাটিংয়ের উপর, আবার ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার চাপ নেতৃত্বের উপর- দু'টোই পন্থকে সমস্যায় ফেলছে।
ঋষভ পন্থ। ছবি: সোশাল মিডিয়া
রুতুরাজ গায়কোয়ার (চেন্নাই সুপার কিংস): এবার একেবারেই ফর্মে ছিলেন না রুতুরাজ। ১২৩.৪৪ স্ট্রাইক রেটে মাত্র ৩৩৭ রান করেছেন। রানের গতি তুলতে গেলেই আউট হয়েছে। সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটি চরম ব্যর্থ। নেতৃত্বেও পাস মার্ক পাবেন না। লিগ টেবিলে অষ্টম স্থানে শেষ করেছে চেন্নাই। অনেকের ধারণা, সঞ্জু দলে আসায় তাঁর উপর বাড়তি চাপ পড়েছে। সম্ভবত আগামী মরশুমে সিএসকে'তে কোচ বদল হবে। অধিনায়কও কি বদলাবে?
রুতুরাজ গায়কোয়ার।
অজিঙ্ক রাহানে (কলকাতা নাইট রাইডার্স): প্রথম ছয় ম্যাচে জয়হীন। সেখান থেকে টানা জিতে প্লেঅফের দৌড়ে চলে আসে নাইটরা। লিগ পর্বের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিল। দলের লড়াকু মানসিকতা বজায় রাখা নিঃসন্দেহে অধিনায়ক রাহানের কৃতিত্ব। তবে প্রথম মুশকিল তাঁর ফর্ম। ১৩৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৩৫ রান করেছেন। পাওয়ারপ্লে'র পর তাঁর ব্যাট চলছে না। যেন অধিনায়ক বলেই প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন। যা আখেরে নাইটদের ক্ষতি করছে। দ্বিতীয়ত, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অতিরক্ষণাত্মক নীতি নিয়ে ফেলছেন। সেটাও একটা বড় সমস্যা।
অজিঙ্ক রাহানে। ফাইল ছবি।
