চলতি আইপিএল মরশুমে চোট-কাঁটা যেন পিছু ছাড়ছে না চেন্নাই সুপার কিংসের। খলিল আহমেদ থেকে আয়ুষ মাত্রে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার আগেই ছিটকে গিয়েছেন। এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলে ফিরতে পারেননি মহেন্দ্র সিং ধোনি। ফলে বারবার ধাক্কা খেতে হয়েছে দলকে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল নতুন নাম। অলরাউন্ডার রামকৃষ্ণ ঘোষ।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আইপিএলে অভিষেকেই নজর কাড়েন মহারাষ্ট্রের এই তরুণ ক্রিকেটার। দুর্দান্ত এক ক্যাচের পাশাপাশি বল হাতেও তুলে নিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদবের উইকেট। মনে করা হচ্ছিল, পরের ম্যাচগুলোতে দলের ভরসা হয়ে উঠতে পারেন সিএসকের এই বঙ্গতনয়। কিন্তু সেই আশায় জল ঢালল চোট।
চিপকে ওই ম্যাচ চলাকালীন ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায় তাঁর। রবিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চেন্নাই সুপার কিংস জানিয়ে দেয়, এই মরশুমে আর খেলতে পারবেন না রামকৃষ্ণ ঘোষ। সোশাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে তারা লেখে, 'মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে ডান পায়ের হাড় ভেঙেছে রামকৃষ্ণ ঘোষের। চলতি আইপিএলে আর অংশ নিতে পারবেন না তিনি। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো র্যাম্বো।' ম্যাচের পর চেন্নাইয়ের হেডকোচ স্টিফেন ফ্লেমিংও জানিয়েছেন, রামকৃষ্ণের চোটে হতাশ গোটা চেন্নাই শিবির।
২০২৫ সালে সিএসকে তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা বেস প্রাইসে দলে নেয়। যদিও প্রথম মরশুমে একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি। তবু ফ্র্যাঞ্চাইজি ভরসা রেখেছিল। এ বছর প্রথম সাত ম্যাচ অপেক্ষার পর অষ্টম ম্যাচে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নজর কাড়েন রামকৃষ্ণ। উইল জ্যাকসের শট ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে উড়ে গেলে দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন। পরে নিজের প্রথম আইপিএল উইকেট হিসাবে ফেরান সূর্যকুমারকে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ মহারাষ্ট্র প্রিমিয়ার লিগে ৩৩ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। তাছাড়া বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের বিপক্ষে ২৭ বলে ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটেই খেলেছেন রামকৃষ্ণ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩ ম্যাচে ২৮ উইকেট, লিস্ট এ ক্রিকেটে ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে হিমাচলপ্রদেশের বিপক্ষে ৪২ রানে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জোরেই আইপিএলের দরজা খুলে গিয়েছিল তাঁর সামনে। কিন্তু সুযোগ পেয়েই চোটের কারণে ছিটকে যেতে হল তাঁকে।
