লক্ষ্মীরতন শুক্লা থাকবেন? নাকি অন্য কাউকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হবে? বাংলা ক্রিকেটমহলে এখন সবচেয়ে বেশি চর্চা পরবর্তী কোচ নিয়ে।
লক্ষ্মীর কোচিংয়ে শেষ কয়েক বছরে বাংলার পারফরম্যান্স বেশ ভালো ছিল। টিম দু'বার সেমিফাইনাল খেলেছে। একবার ফাইনাল। কিন্তু হঠাৎ করেই শোনা যাচ্ছিল, লক্ষ্মী হয়তো নিজেই আর কোচিং করবেন না। সিএবি নতুন কোচের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। ভারতীয় বোর্ড যেমন কোচ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়, ঠিক সেই পথে এবার হেঁটেছে সিএবি। যা বাংলা ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। শুক্রবার আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে। অবশ্য শুধু সিনিয়র টিম নয়, বয়স ভিত্তিক প্রত্যেকটা টিমের জনাই কোচের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
যা শোনা গেল, তাতে সিনিয়র টিমের কোচের জন্য প্রচুর আবেদনপত্র জমা পড়েছে। আর সেখানে প্রচুর বড় নাম রয়েছে। যার মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশিও রয়েছেন। যা শোনা গেল, তাতে শন টেট, বেন হিলফেনাস থেকে শুরু করে ওয়াসিম জাফর রয়েছেন। ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে এর আগেও বিদেশি কোচ দায়িত্ব সামলেছেন। ডাভ হোয়াটমোর চার বছর কেরলের কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। গতবার অন্ধ্রপ্রদেশের কোচ ছিলেন গ্যারি স্টেড। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন পেসার টেট একটা সময় পাকিস্তানের বোলিং কোচের দায়িত্ব ছিলেন। আফগানিস্তান টিমের সঙ্গে ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ টিমের বোলিং কোচ টেট। প্রাক্তন অজি ক্রিকেটার বাংলা কোচের জন্য আবেদন করেছেন। একইভাবে আবেদন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার আরও এক প্রাক্তন পেসার হিলফেনাস। যদিও সিএবি কোনও বিদেশি কোচের দিকে ঝুঁকবেন কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। ওয়াসিম জাফর সেই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে জাফরের অবদান কী, সেটা আর নতুন বলার প্রয়োজন পড়ে না। কোচ হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বাংলার কোচের ব্যাপারে জাফরের নাম শোনা গিয়েছিল।
সিনিয়র টিমের কোচের জন্য প্রচুর আবেদনপত্র জমা পড়েছে। আর সেখানে প্রচুর বড় নাম রয়েছে। যার মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশিও রয়েছেন। যা শোনা গেল, তাতে শন টেট, বেন হিলফেনাস থেকে শুরু করে ওয়াসিম জাফর রয়েছেন। ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে এর আগেও বিদেশি কোচ দায়িত্ব সামলেছেন।
টেট-জাফরদের সঙ্গে বাংলার অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার আবেদন করেছেন। তালিকাটাও বেশ দীর্ঘ। লক্ষ্মীরতন নিজে করেছেন। ঋদ্ধিমান সাহা গতবার অনুর্ধ্ব তেইশ টিমের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আবেদন করেছেন। বাংলার আর এক প্রাক্তন মনোজ তিওয়ারি রয়েছেন। অনেকেই বলছিলেন, যেভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কোচ নিয়োগ করা হচ্ছে, সেটা দারুণ।
তবে সবচেয়ে বড় চমকের নাম অনুষ্টুপ মজুমদার। শেষ কয়েক বছর বাংলা ক্রিকেটের ক্রাইসিস মান। বাংলা যে নিয়মিত নকআউটে খেলেছে, তার জন্য অনুষ্টুপের বড় অবদান রয়েছে। গতবার রনজির পরই অনুষ্টুপকে প্রশ্নটা করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও পরিকল্পনা। সরাসরি কিছু বলেননি। ক্লাব ক্রিকেটে খেলছেন। রবিবার লিগের সেমিফাইনালে কালীঘাটের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের হয়ে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন। অনেকেরই মনে হচ্ছে, এখনও আরাম করে এক-দেড় বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। কিন্তু অনুষ্টুপ নিজে হয়তো অন্য কিছু ভাবছেন। হয়তো দ্রুতই অবসরের সিদ্ধান্ত চলে আসতে পারে। না হলে কেন তিনি কোচের জন্য আবেদন করবেন? যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে শর্ট লিস্ট হবে। তারপর তাঁদের ইন্টারভিউ পর্ব। তারপরই সরকারিভাবে নাম ঘোষণা করে দেওয়া হবে। যা খবর, তাতে আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে সব চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
