চেন্নাই সুপার কিংস: ২১২/২ (সঞ্জু ১১৫*, আয়ুষ ৫৯, অক্ষর ৩৯/১)
দিল্লি ক্যাপিটালস: ১৮৯/১০ (স্টাবস ৬০, নিশঙ্কা ৪১, জেমি ওভারটন ১৮/৪)
২৩ রানে জয়ী সিএসকে
হারের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত চেন্নাইকে সঞ্জীবনী এনে দিলেন সঞ্জু স্যামসন। অনেকেই ভেবেছিলেন, একমাত্র মহেন্দ্র সিং ধোনিই হয়তো 'মুশকিল আসান'। কিন্তু এই ম্যাচেও নামতে পারেননি তিনি। তাই বাড়তি নজর ছিল সঞ্জুর দিকে। এদিন নিরাশ করলেন না। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাসে তলানিতে থাকা দলকে নিয়ে গেলেন ২১২ রানে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জেমি ওভারটনের বিধ্বংসী স্পেলের সামনে দিল্লির ইনিংস শেষ হয় ১৮৯ রানে। তিন ম্যাচ পর এবারের আইপিএলে প্রথম জয় পেল চেন্নাই সুপার কিংস।
শনিবার টসে জিতে চেন্নাইকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। কে জানত এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যাবে! অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের (১৫) ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী না হলেও আয়ুষ মাত্রেকে নিয়ে বিরাট জটি গড়লেন সঞ্জু। তাতেই এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে ফিরল প্রাণ। ৬১ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করলেন তিনি। একেবারে বিশ্বকাপের মেজাজে ব্যাট করে গেলেন। বুঝিয়ে দিয়ে গেলে তিনি ফর্মে থাকলে কী হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থাকলেন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ১৫টি চার ৪টি ছক্কা দিয়ে। পাশাপাশি আয়ুষের নামের পাশে ৩৬ বলে ৫৯ রানের ‘অবসৃত’ ইনিংস। শেষে এসে ১০ বলে ২০ রান করে গেলেন শিবম দুবে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মেজাজেই করলেন পাথুম নিশঙ্কা। ধীরে সুস্থে এগোচ্ছিলেন কেএল রাহুল। তবে খলিল আহমেদের বলে ১৮ রানে সাজঘরে ফিরলেন তিনি। একই ওভারে শ্রীলঙ্কান তারকা ওপেনারকে ফেরালেন বাঁহাতি বোলার। নিশঙ্কার ২৪ বলে ৪১ রানের ইনিংস সাজানো ৫টি চার ২টি ছক্কা দিয়ে। এরপর দিল্লির ব্যাটাররা এলেন আর গেলেন। সমীর রিজভি (৬), অক্ষর প্যাটেল (১) পরপর ফিরলেন। তবে দিল্লি অধিনায়ককে ফেরাল সরফরাজ খানের 'জন্টি' ক্যাচ। অমন একটা ক্যাচ নেওয়ার পর মাঠ জুড়ে সেলিব্রেশন করে গ্যালারি মাতিয়ে দিলেন তিনি।
ডিভিড মিলারের ইনিংসও বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। জেমি ওভারটনের বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ১৭ রানে ফিরলেন। আশুতোষ শর্মা করলেন ১৯। শেষের দিকে একা কুম্ভ রক্ষা করার চেষ্টা ত্রিস্টান স্টাবসের। কিন্তু সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর মতো কাউকে না পেলে জয়ে পৌঁছনো যায় না। এদিন সেটাই হল। সঙ্গীহীনতার নিঃসঙ্গতায় ভুগে ৩৮ বলে ৬০ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে সাজঘরের রাস্তায় হাঁটলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি ৪, তিনটি ছক্কা। তিন ম্যাচ পর প্রথম জয়ের দেখা পেল ধোনিহীন চেন্নাই। সমর্থকদের আশা, মাহি ফিরলে তাঁদের দল আরও শক্তিশালী হবে। চেন্নাইয়ের হয়ে ১৮ রানে ৪ উইকেট জেমি ওভারটনের। তিন উইকেট অংশুল কম্বোজের। খলিল আহমেদ, গুরপ্রীত সিং এবং নূর আহমেদ ভাগ করে নিলেন একটি করে উইকেট।
