দিল্লি ক্যাপিটালস: ২৬৪/২ (কেএল রাহুল ১৫২*, নীতীশ রানা ৯১, অর্শদীপ ৪৯/১)
পাঞ্জাব কিংস: প্রভসিমরন ৭৬, শ্রেয়স আইয়ার ৭১*, কুলদীপ ৪৬/২)
৬ উইকেটে জয়ী পাঞ্জাব।
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কত রান যথেষ্ট বা নিরাপদ, তা বোঝা ভার! বিশেষ করে দিল্লির মতো পিচে। প্রথমে ব্যাট করে দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) তুলল ২৬৪। জবাবে পাঞ্জাবের দুই ওপেনার এমন ঝড় তুললেন, তাতে আয়লা বা ফণীর মতো তাবড় দুই ঘূর্ণিঝড়ও ভয় পেতে বাধ্য। তাঁদের ঝোড়ো ব্যাটিংই পাঞ্জাবকে (Punjab Kings) শক্তিশালী জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শ্রেয়সের অকুতোভয় ইনিংস রাজধানীর 'হিমালয়' টপকে নজির গড়ল। জলে গেল কেএল রাহুলের 'অতিমানবীয়' শতরানও।
সমালোচকদের জবাব দিতে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচটাই বেছে নিয়েছিলেন কেএল রাহুল। ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রথম থেকেই দেড়শোর বেশি স্ট্রাইক রেটে ইনিংস সাজান। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, রাহুলের স্ট্রাইক রেটও বাড়ে পাল্লা দিয়ে। শেষ পর্যন্ত তারকা ওপেনার ১৫২ রানে অপরাজিত থেকে গেলেন। আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয় হিসাবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসাবে নজির গড়লেন তিনি। ছিনিয়ে নিলেন অরেঞ্জ ক্যাপও। একঝাঁক রেকর্ড গড়লেন ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। জলে গেল কেএল রাহুলের অতিমানবীয় শতরানও।
রাহুলের দাপটে চলতি আইপিএলের (IPL 2026) সর্বোচ্চ দলগত রান করল দিল্লি। দারুণ ব্যাটিং করলেন নীতীশ রানাও। ৪৪ বলে তাঁর ব্যাট থেকে এল ৯১ রান। তাঁদের পার্টনারশিপে উঠল ২২০ রান, আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ঘরের মাঠে ২৬৪ রান তুলল দিল্লি ক্যাপিটালস। জবাবে একেবারে তুরীয় মেজাজে শুরু করলেন পাঞ্জাব কিংসের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভসিমরন সিং। দুই ওপারের বিধ্বংসী ব্যাটিংই পাওয়ার প্লে-তে পাঞ্জাবকে পৌঁছে দিল বিনা উইকেটে ১১৬ রানে। আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোরের দিক থেকে যা দ্বিতীয় সেরা। এর মধ্যে ষষ্ঠ ওভারে মুকেশ কুমারকে ৬ বলে ছ'টা চার মারলেন প্রভসিমরন। বলে দেওয়া যাক, আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর হল বিনা উইকেটে ১২৫। দু'বছর আগে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই এই রান করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
পাঞ্জাবের দুই ওপেনার এমন ঝড় তুললেন, তাতে আয়লা বা ফণীর মতো তাবড় দুই ঘূর্ণিঝড়ও ভয় পেতে বাধ্য। তাঁদের ঝোড়ো ব্যাটিংই পাঞ্জাবকে শক্তিশালী জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শ্রেয়সের অকুতোভয় ইনিংস রাজধানীর 'হিমালয়' টপকে নজির গড়ল।
তবে পাওয়ার প্লে-র পরের ওভারে পাঞ্জাবকে প্রথম ধাক্কা দিলেন দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। ১৭ বলে ৪৩ রানে সাজঘরে ফিরলেন প্রিয়াংশ। খানিক পরেই কুলদীপের ফেরালেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা প্রভসিমরনকেও। ২৬ বলে ৭৬ রানের ঝোড়ো ইনিংসে মারলেন ৯ চার, ৫ ছক্কা। রান পেলেন না কুপার কনলি (১৭)। এরপর খেলা জমিয়ে দিলেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তবে মাঝে অবশ্য দেখা গেল দিল্লির করুণ ফিল্ডিংও। পরিবর্ত হিসাবে ফিল্ডিং করতে নেমে দু-দু'টি ক্যাচ ফেললেন করুণ নায়ার। কিন্তু কথায় আছে, ভাগ্য সব সময় সাহসীদেরই সঙ্গ দেয়। শ্রেয়সের ক্ষেত্রে এই কথাটাই খাটে। ৩৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন পাঞ্জাব অধিনায়ক।
সব মিলিয়ে এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনের সাক্ষী থাকল আইপিএল। মাত্র ৩৯ ওভারে দুই দলের স্কোর মিলিয়ে উঠল ৫২৯ রান। রানবন্যার এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসে পাঞ্জাব কিংস গড়ল এক ঐতিহাসিক নজির। প্রতিপক্ষের ২৬৪ রানের বিশাল লক্ষ্যও এ দিন অপ্রতুল প্রমাণিত। শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতেই মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডও নিজেদের নামে লিখিয়ে নিল পাঞ্জাব কিংস। ঘটনাচক্রে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার ক্ষেত্রে এর আগের রেকর্ডও তাদের নামেই। কেকেআরের বিরুদ্ধে দু'বছর আগে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল পাঞ্জাব। আরও একবার প্রমাণিত হল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও লক্ষ্যই আর নিরাপদ নয়। অপরাজিত থেকে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে মগডালে পাঞ্জাব।
