আইপিএল খেলতে গিয়ে কেরিয়ারটাই শেষ হয়ে গিয়েছে! বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর দাবি, বোর্ডের নির্দেশের থেকেও বেশি দিন তিনি আইপিএল খেলতে চেয়েছিলেন। তার জেরে বোর্ডের রোষানলে পড়েন। প্রবল বিতর্ক এবং বোর্ডের চাপে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার মাঝপথেই শেষ হয়ে যায়। আইপিএল চলাকালীন ইংরেজ প্রাক্তনীর এহেন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে হইচই।
বক্তার নাম কেভিন পিটারসেন। তাঁকে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের কিংবদন্তি বলা যাবে কিনা, সেই নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু পিটারসেনের কথায়, তিনি যদি আইপিএলকে বেশি গুরুত্ব না দিতেন তাহলে হয়তো এই মতপার্থক্যের জায়গাটাই তৈরি হত না। একটি পডকাস্টে পিটারসেন বলেন, "আমার কেরিয়ারে ১০৪ টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু আমার অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০টা টেস্ট খেলার কথা ছিল। অন্তত ১৩ হাজার রান করতে পারতাম। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের জার্সিতে আমার কেরিয়ার শেষ হয়ে গেল।"
এই পরিণতির জন্য আইপিএলকেই খানিকটা দায়ী করেছেন পিটারসেন। তিনি বলেন, বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ২০০৮ সালের আইপিএলে খেলার অনুমতি দেয়নি ইসিবি। পরের বছর তিন সপ্তাহের জন্য় ইংরেজ ক্রিকেটারদের অনুমতি দেওয়া হয়। সেসময়ে আরসিবিতে যোগ দেন পিটারসেন। কিন্তু তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় আইপিএলে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে সংঘাতে জড়ান বোর্ডের সঙ্গে। প্রাক্তন ক্রিকেটারের অভিযোগ, তাঁর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে মিডিয়াকে 'লেলিয়ে দিয়েছিল' ইংল্যান্ড বোর্ড। বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ করতে হয় বলেই দাবি পিটারসেনের।
আইপিএলে অবশ্য দীর্ঘদিন খেলেছেন পিটারসেন। আরসিবির পর দিল্লি ডেয়ারডেভিলস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের স্কোয়াডে ছিলেন। মেন্টর হিসাবে দিল্লি ক্যাপিটালসের দায়িত্বও সামলেছেন। তবে পিটারসেন মনে করছেন, তাঁর আত্মত্যাগের সুফল পেয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের পরের প্রজন্ম। জস বাটলার, জফ্রা আর্চার, স্যাম কারান, বেন স্টোকসরা আইপিএল এবং জাতীয় দল দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলতে পেরেছেন। যদিও বর্তমানে বেশ কয়েকজন ইংরেজ ক্রিকেটার জাতীয় দলকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
