সাতবছর পর সক্রিয় রাজনীতিতে বীরভূমের দুধকুমার মণ্ডল। ছাব্বিশের নির্বাচনে ময়ূরেশ্বর আসনে তাঁকে প্রার্থী করছে পদ্মশিবির। স্বাভাবিকভাবেই প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন তিনি। এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। 'আমি তোমাদেরই লোক' প্রমাণ করতে চাষির বাড়িতে ঢুকে সরষেও ঝেড়ে দিচ্ছেন। হাত লাগাচ্ছেন অন্যান্য কাজেও। আর তাঁর ভোট প্রচারের এই পদ্ধতিকেই বিঁধেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বলেন, "ভোট এলেই এই বিজেপি প্রার্থীকে মানুষের পাশে দেখা যায়, ভোট পেরলেই আর দেখা নেই।"
২০১১ সালে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা, ২০১৬ সালে রামপুরহাট বিধানসভা এবং ২০১৯ সালে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে প্রতিবারই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি তিনি জেলা বিজেপির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন।
বঙ্গ রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম দুধকুমার মণ্ডল। ২০১১ সালে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা, ২০১৬ সালে রামপুরহাট বিধানসভা এবং ২০১৯ সালে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে প্রতিবারই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি তিনি জেলা বিজেপির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি কার্যত রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন। প্রায় সাতবছর পর ফের তাঁকে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক ময়দানে দেখা যাচ্ছে, তাও আবার সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে। প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই তিনি জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন। তবে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, ভোট এলেই তাঁর দেখা মেলে, আর বাকি সময় তিনি কার্যত অদৃশ্য থাকেন, যেন মরুভূমির মরীচিকা।
দুধ কুমার মণ্ডলের প্রচারের ধরন নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ময়ূরেশ্বর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি প্রমোদ রায় ব্যঙ্গের সুরে বলেন, “ভোট এলেই এই বিজেপি প্রার্থীকে মানুষের পাশে দেখা যায়, ভোট পেরোলেই আর দেখা নেই-তোমার দেখা নেই রে বন্ধু, তোমার দেখা নেই।” অন্যদিকে, ময়ূরেশ্বর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ রায় আরও কড়া ভাষায় বলেন, “এই বিজেপি প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরেই নিরুদ্দেশ ছিলেন। সাধারণ মানুষের পাশে তাঁকে কখনই দেখা যায়নি। ভোট এলেই প্রার্থী হয়ে হঠাৎ করে প্রচারে নেমে পড়েন, তারপর আবার ধূমকেতুর মতো মিলিয়ে যান।” সমস্ত কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে বোলপুর সাংগঠনিক বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল জানান, "বিজেপি সারা বছর মানুষের পাশে না থাকলে বিজেপি দলটা কি ওনাদের দয়ায় টিকে আছে? বিজেপি দল নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে থাকে। কিন্তু তৃণমূল দল স্বার্থ লোটে আর মানুষের পাশে থাকে। তৃণমূল সস্তার রাজনীতি করে বাজার গরম করে ভেসে থাকতে চাইছে।"
