প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, অস্ট্রেলীয় বোলাররা আগ্রাসনের চেনা মেজাজেই থাকেন। রান আটকানোর পরিবর্তে, আক্রমণে জোর দিয়ে ব্যাটারকে ফেরানোর উপর থাকে তাঁদের যাবতীয় মনযোগ। বুধবার রাতে অবশ্য তার ব্যতিক্রম দেখা গেল প্যাট কামিন্সের বোলিংয়ে। রাজস্থান রয়্যালস ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর ‘অতিমানবিক’ প্রহার মোকাবিলায় একটা সময় লেগ স্টাম্প বরাবর বোলিং করা শুরু করেন। তবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়কের যাবতীয় কূটকৌশলের অন্তিম ঠিকানা হয়েছে মুলানপুরের গ্যালারি।
রাজস্থান রয়্যালস ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর ‘অতিমানবিক’ প্রহার মোকাবিলায় একটা সময় লেগ স্টাম্প বরাবর বোলিং করা শুরু করেন কামিন্স। তবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়কের যাবতীয় কূটকৌশলের অন্তিম ঠিকানা হয়েছে মুলানপুরের গ্যালারি।
শুক্রবার আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে বৈভবের ব্যাটই যে রাজস্থানের (GT Vs RR) ‘পাশুপাত’, বলাই বাহুল্য। ‘বেবি বসের’ সতীর্থ থেকে কোচেরাও শোনাচ্ছেন সেকথা। ধ্রুব জুরেল যেমন। বাইশ গজে বৈভবের তাণ্ডব খুব কাছ থেকেই দেখেন তিনি। রাজস্থান উইকেটকিপার বলছিলেন, “একটা বিষয় হল, বৈভব কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে রাখে না। বরং নিজের অনুশীলনে জোর দেয়। সেটাই ওকে আত্মবিশ্বাসী করে। ও মাঠে নামে এবং নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলে। নিজের ক্ষমতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ওর মধ্যে থাকে না। আসলে ছোটবেলায় আমাদের শেখানো হয় যে, সবসময় বলটা দেখতে হবে, বোলারকে নয়। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা বলের সঙ্গে বোলারকেও দেখি। তাকে গুরুত্ব দিই। কিন্তু বৈভব এখনও বলটাই দেখে শুধু। বোলার কে, তা ওর মাথাব্যথার কারণ হয় না!”
বুধবার মুলানপুরে এলিমিনেটরে বৈভব-বিক্রম মুগ্ধ করেছে স্বয়ং শচীন তেণ্ডুলকরকে। রাজস্থানের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট জুবিন ভারুচা আবার কিশোর ওপেনারের পরিবর্তনের সাক্ষী। তাঁর ট্রায়ালে আসার কথা উল্লেখ করে জুবিন বলছিলেন, “বৈভবের একটা গুণ হল, ও দ্রুত শিখতে পারে। ওর বর্তমান ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কয়েক বছর আগের কোনও মিল নেই। বহুচর্তিত ব্যাকলিফটের কথাই ধরুন। সেটা কিন্তু ভালো পেসারদের মোকাবিলা করতে করতে শিখেছে বৈভব। ট্রায়ালে যখন এসেছিল, ওর ব্যাট স্পিড তেমন বেশি ছিল না। আমরা সেটা লক্ষ্য করেছিলাম। তা নিয়ে মাস তিনেক কাজ করার পর ওর ব্যাট স্পিড অন্তত তিরিশ শতাংশ বেড়ে যায়। আসলে কিছু ব্যাটার সামান্য বেশি সময় পায় শট খেলার ক্ষেত্রে। বৈভবেরও সেই ক্ষমতা আছে।”
বুধবার মুলানপুরে এলিমিনেটরে বৈভব-বিক্রম মুগ্ধ করেছে স্বয়ং শচীন তেণ্ডুলকরকে। রাজস্থানের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট জুবিন ভারুচা আবার কিশোর ওপেনারের পরিবর্তনের সাক্ষী।
সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত ইনিংসে বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছেন বৈভব। এবার তাঁর লড়াই কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, জেসন হোল্ডারদের বিরুদ্ধে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে তেমন সাফল্য পায়নি গুজরাট ব্যাটিং। সেখানে শেষ ম্যাচে দুরন্ত বোলিং করেছেন জফ্রা আর্চার, রবীন্দ্র জাদেজারা। ফলে রাজস্থানকে ঠেকানোর জন্য বোলিংই ভরসা শুভমান গিলদের। চলতি আইপিএলে গুজরাটের বিরুদ্ধে দু’বার খেলেছেন বৈভব। প্রতিবারই বিস্ফোরক শুরু করেও ইনিংস লম্বা করতে পারেনি সে। তবে মুলানপুরে বেশ সফল ‘বেবি বস’। পাশাপাশি আইপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটা শুভমানদের বিরুদ্ধেই করেছিল সে। সেই তথ্য যেমন রাজস্থানকে স্বস্তি দেবে, তেমনই চাপ বাড়াবে গুজরাটের।
