আরও একটা হতাশাজনক মরশুম কেটেছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের। পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে শেষ করেছে তারা। এরপর অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)। শুক্রবার এলএসজি এক বিবৃতিতে জানায়, পন্থ নিজেই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে যা মেনেও নেওয়া হয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'লখনউ সুপার জায়ান্টস আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছে, ঋষভ পন্থ অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি তার এই অনুরোধ গ্রহণ করেছে।' ২০২৫ সালের নিলামে ২৭ কোটি টাকায় পন্থকে দলে নেয় লখনউ। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দাম পাওয়া ক্রিকেটারকে নিয়ে। অধিনায়ক হিসাবে দুই মরশুমেই দলকে প্লেঅফে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারের আইপিএলে তাঁর নেতৃত্বে ১৪ ম্যাচে মাত্র ৪টি জয় পেয়েছে লখনউ। ২০২৫ মরশুমেও ১৪ ম্যাচে মাত্র হাফ ডজন ম্যাচ জয় পেয়েছিল সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল।
ফ্র্যাঞ্চাইজি সূত্রে জানা গিয়েছে, পন্থ নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা কর্তৃপক্ষকে জানান। সেই অনুরোধ মেনে নেওয়া হয়েছে। দলের কোচ টম মুডি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, 'ঋষভ নিজেই ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে এই অনুরোধ জানিয়েছিল। আমরা তা সম্মানের সঙ্গে মেনে নিয়েছি। এই ধরনের সিদ্ধান্ত কখনওই সহজ নয়। অধিনায়ক হিসাবে ড্রেসিংরুমে ও যা অবদান রেখেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এখন আমাদের লক্ষ্য, দলের ভোল বদলে নিজেদের সাজিয়ে নেওয়া।'
অর্থাৎ দুই মরশুম মিলিয়ে পন্থের নেতৃত্বে ২৮ ম্যাচে এলএসজি জিতেছে মাত্র ১০টি ম্যাচ। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, দলের প্রত্যাশার বিচারে তা নিছকই সাদামাটা। অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ছন্দ হারিয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। ২০২৫ সালে ১৪ ম্যাচে করেন ২৬৯ রান। এই মরশুমে তাঁর সংগ্রহ ৩১২ রান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ভালো পারফরম্যান্সের পর লখনউয়ে যোগ দেন পন্থ। সেই মরশুমে ১৩ ম্যাচে ৪৪৬ রান করেছিলেন। কিন্তু লখনউয়ের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স আহামরি নয়। এলএসজির জার্সি গায়ে ২৮ ম্যাচে করেছেন ৫৮১ রান। গড় ২৬.৪। স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৭৪। এর মধ্যে একটি সেঞ্চুরি এবং মাত্র দু' টি হাফসেঞ্চুরি।
দলের ব্যর্থতা তো বটেই, ব্যক্তিগত ফর্মের অবনমনের হতাশা থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল। এখন নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হবে লখনউকে। দৌড়ে রয়েছেন মিচেল মার্শ, এডেন মার্করাম এবং নিকোলাস পুরান। যাঁরা প্রত্যেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের দেশের অধিনায়কত্ব করেছেন। এখন দেখার, নতুন অধিনায়কের হাতে এলএসজি ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।
