ক্রিকেটে সাধারণত ব্যাটিং গড় ১০০ হলে সেটাকে বিরল কৃতিত্ব হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু এবার আলোচনায় ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। যেখানে কোনও ব্যাটার নয়, এক বোলারের বোলিং গড় ১০০-র উপর। বলা হচ্ছে, জশপ্রীত বুমরাহর (Jasprit Bumrah) কথা। তিনিই যেন 'উলটো ডন ব্র্যাডম্যান'। টেস্ট ক্রিকেটে কিংদন্তি ক্রিকেটারের ব্যাটিং গড় ৯৯.৯৪। এবার 'হতশ্রী' বোলিংয়ে সেই গড় অতিক্রম করে নেটদুনিয়ায় চর্চিত তারকা পেসার।
এবারের আইপিএল একেবারেই ভালো যায়নি তাঁর। ১৩ ম্যাচে মাত্র ৪ উইকেট নিলেও ২৯৪ রান দিয়েছেন। ফলে তাঁর বোলিং গড় দাঁড়িয়েছে ১০২.৫০। যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড। এই মরশুমে বুমরাহর ইকোনমি রেট ছিল ৮.৩৭। স্ট্রাইক রেট ৭৩.৫০। অবাক করা বিষয় হল, একাধিক ম্যাচে নিজের চার ওভারের কোটা শেষ করলেও একাধিক ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। তাঁর মতো বোলারের কাছে যা নিঃসন্দেহে অপ্রত্যাশিত। তিনি চাইবেন, যতটা দ্রুত সম্ভব, এবারের আইপিএল মরশুম ভুলে যেতে। এটাই তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে 'জঘন্যতম' আইপিএল।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা বুমরাহর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সতর্ক থাকায় তাঁর উইকেট সংখ্যা কমে যেতে পারে। ব্যাটাররা ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে রান তোলার পথ বেছে নেন। তাছাড়াও মুম্বইয়ের অন্যান্য বোলারদের বিরুদ্ধে রান বেশি হওয়ায় ব্যাটাররা বুমরাহকে সামলে খেলেছেন। ফলে রান কম দিলেও তাঁর উইকেট সংখ্যা বাড়েনি। ২০১৩ সালে আইপিএলে অভিষেকের পর থেকেই ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। প্রত্যকে মরশুমে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বুমরাহ। ২০১৬ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিটি মরশুমেই তিনি নিয়মিতভাবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
বিশেষ করে ২০১৭ সালে ২০ উইকেট, ২০২০ সালে ২৭ উইকেট এবং ২০২১ সালে ২১ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেন। পরবর্তী বছরগুলোতেও সেই ফর্ম বজায় রেখে ২০২৪ ও ২০২৫ মরশুমে যথাক্রমে ২০ ও ১৮ উইকেট নেন তিনি। তাই হঠাৎ করে এক মরশুমে মাত্র ৪ উইকেট নেওয়ার ঘটনা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক ও বিস্ময়কর। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও সফল বোলারের ক্ষেত্রে এমন 'পতন' স্বাভাবিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ এর আগে কোনও বোলারই একটি টুর্নামেন্টে এমন এমন গড়ের মুখোমুখি হননি। সাধারণত বিশ্বের সেরা বোলারদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের পরিসংখ্যান দেখা যায় না।
